বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুতেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখার বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন শেখর সুমন। ১৯৮৪ সালে শশী কাপুর প্রযোজিত এবং গিরিশ কর্নাড পরিচালিত ‘উৎসব’ চলচ্চিত্রে কাজের সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর কাছে অমলিন। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আয়োজনে ‘স্ক্রিন স্পটলাইট’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করেন তিনি। শেখর সুমন জানান, রেখা একজন বিশাল তারকা হওয়া সত্ত্বেও শুটিং সেটে তাঁকে কখনোই অস্বস্তিতে ফেলেননি। বিশেষ করে অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণের সময় রেখার পেশাদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক আচরণ তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।
একজন নবাগত অভিনেতা হিসেবে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও রেখার আন্তরিকতায় তা দ্রুত কেটে যায় বলে জানান শেখর। তাঁর মতে, অনেক বড় তারকাকে ঘিরে যে ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন থাকে, তা নতুন শিল্পীদের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু রেখা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন; তিনি পাশে বসে কথা বলে পরিবেশ সহজ করে দিতেন, ফলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগেই শেখর স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন।
অভিনেতা আরও জানান, পরিচালক গিরিশ কর্নাড তাঁকে একটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন। কর্নাড বলেছিলেন, ‘রেখা’কে নয়, চরিত্র ‘বসন্তসেনা’কে সামনে রেখে অভিনয় করতে। এই নির্দেশই তাঁকে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। অন্তরঙ্গ দৃশ্যের কথা উল্লেখ করে শেখর সুমন বলেন, বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও রেখা কখনো বলেননি, ‘এখানে স্পর্শ কোরো না’ কিংবা ‘আমি আর রিটেক দেব না।’ বরং দৃশ্যের প্রয়োজনে তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিলেন এবং কাজটিকে অভিনয়ের অংশ হিসেবেই দেখতেন। শেখরের বিশ্বাস, রেখার এই মনোভাবই নতুন শিল্পীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
পরবর্তীতে ‘মানব হত্যা’ চলচ্চিত্রে সহশিল্পী হিসেবে পান তৎকালীন নবাগত মাধুরী দীক্ষিতকে। সেই স্মৃতি মনে করে শেখর বলেন, পরিচালকের কাছে যখন নতুন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তখন তাঁর উত্তর ছিল, ‘রেখার মতো বড় তারকা যদি আমার মতো নতুন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন, তাহলে আমি কেন নতুন একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করব না?’ মাধুরীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ সুন্দর একটি মেয়ে!’ তাঁর মতে, মাধুরী ছিলেন সেই সময়ের অন্যতম বড় আবিষ্কার।
ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘উৎসব’, ‘রেহগুজার’ কিংবা ‘নাচে ময়ূরী’র মতো নারীপ্রধান ছবিতে অভিনয় করলেও তা কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল না বলে জানান শেখর। তিনি কেবল পছন্দসই চরিত্রগুলোই গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মতে, ‘উৎসব’-এ রেখার চরিত্রটি বড় হলেও তাঁর নিজের চরিত্রটিও সমান গুরুত্ব পেয়েছিল এবং দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পরবর্তীতে ‘পতি পরমেশ্বর’ ছবিতে ধূসর চরিত্রে অভিনয়ের সিদ্ধান্তটি তিনি সচেতনভাবেই নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, দর্শক যদি চরিত্রটিকে ঘৃণা করে, তবেই একজন অভিনেতার সাফল্য। একই ইমেজে আটকে না থেকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করাই একজন শিল্পীর প্রকৃত চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘উৎসব’ সিনেমাটিকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন শেখর। তিনি বলেছিলেন, ‘ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে কোনো নবাগত হয়তো এত বড় সুযোগ খুব কমই পেয়েছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে আমি ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হই। তখনো আমার স্যুটকেস পুরোপুরি খোলাই হয়নি। দুই মাসের মধ্যেই আমি রেখার সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শুটিং করছি। শশী কাপুর, গিরিশ কার্নাড ও রেখার কাছে আমি চিরকাল ঋণী।’