চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর কেটে গেছে পাঁচ মাস। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের কারণে তাঁদের নিয়োগ আটকে আছে। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব আর অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা যখন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই কিছুটা আশার খবর এসেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার জানিয়েছেন, চলমান গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রায় শেষ। চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই এই রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিয়ম মেনে নিয়োগের পরবর্তী কাজ শুরু হবে।
মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও প্রার্থীরা একে খুব বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের মতে, পাঁচটা মাস চরম অনিশ্চতায় ঘরে বসে থাকার যে মানসিক ও আর্থিক কষ্ট, তা কেবল দ্রুত নিয়োগপত্র পেলেই শেষ হবে।
.৫০তম বিসিএস লিখিতর ফল ঘোষিত সময়ের মধ্যেই, সম্ভব হলে আগেই, বলছে পিএসসি.উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা
প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত শেষ করা হয়। কিন্তু শেষ ধাপে বিশেষ নিরাপত্তা ভেরিফিকেশন যুক্ত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি আটকে যায়।
চূড়ান্তভাবে টিকে গেছেন জেনে অনেকেই আগের চাকরি বা কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে পাঁচ মাস ধরে কোনো আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার নিয়ে তাঁদের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। পদে পদে আত্মীয়স্বজন ও সমাজের মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রার্থী বলেন, ‘সব পরীক্ষায় পাস করেও একটি রিপোর্টের জন্য এতগুলো মাস বসে থাকা খুব যন্ত্রণার। এখন বলা হচ্ছে চলতি মাসেই রিপোর্ট জমা হবে। আমরা চাই আর দেরি না করে দ্রুত যেন আমাদের স্কুলে যোগদানের ব্যবস্থা করা হয়।’
.যুক্তরাষ্ট্রের হামফ্রে ফেলোশিপ: মাসিক ভাতাসহ ৯ মাস পড়াশোনা, যাদের সুযোগ.মাঠপর্যায়ের তীব্র শিক্ষকসংকট
এদিকে মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষকের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা স্বাভাবিক রাখতে নতুন শিক্ষক প্রয়োজন। এর মধ্যে আদালতের আদেশের পর ৩৬ হাজার ২৩৫ জন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন। তাঁরা পদোন্নতি পেয়ে নতুন পদে গেলে সহকারী শিক্ষকের পদগুলোতে বড় ধরনের নতুন শূন্যতা তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে সারা দেশে পদোন্নতি ও স্বাভাবিক অবসরের কারণে বর্তমানে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা হওয়ার পথে। এমন পরিস্থিতিতে এখন আটকে থাকা ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক দ্রুত যোগদান করতে পারলে মাঠপর্যায়ের এই তীব্র জনবল সংকট কিছুটা কমত।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ভেরিফিকেশন জরুরি, তা প্রার্থীরাও মানেন। তবে এই প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে একদিকে যেমন হাজারো তরুণের জীবন থমকে গেছে, অন্যদিকে সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
.পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে নবমসহ বিভিন্ন গ্রেডে ১৮৫ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ২২ জুলাই