সম্প্রতি টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাত। সৃষ্টি হওয়া বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক দিন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। খাগড়াছড়ি হয়ে রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটিও বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাজেকে প্রায় চার শতাধিক পর্যটক আটকে পড়েন।

পাহাড় ধস ও বন্যার ঝুঁকির কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্যালিসহ জেলার ঝর্ণা ও পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে আলুটিলা, জেলা পরিষদ পার্ক, রিসাং ঝর্ণা ও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র প্রায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক পর্যটক এখনও আসতে শুরু করেনি।

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্কের ব্যবস্থাপক কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, টানা দুর্যোগের কারণে পার্কে দর্শনার্থী প্রায় ছিলই না। এতে রাজস্ব আয়ও অনেক কমে গেছে। তবে এখন পার্কে নতুনভাবে জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং সংযোজনসহ সংস্কারকাজ চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং এ দুটি নতুন আকর্ষণে পর্যটক বাড়বে বলে আশা করছি।

ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিল হয়ে যায়। কয়েক দিন পুরো পর্যটন খাত স্থবির ছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। আমরা পর্যটকদের বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। খাগড়াছড়ি এলে সর্বোচ্চ সেবাটুকু দিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক ক্যসিং মারমা বলেন, দুর্যোগের সময় অধিকাংশ কক্ষ খালি ছিল। বুকিং বাতিল হওয়ায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এখন ধীরে ধীরে পর্যটক আসতে শুরু করলে সে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, খাগড়াছড়ি একটি পাহাড়সমৃদ্ধ অঞ্চল। এ জেলার প্রাকৃতিক রূপ-সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে পাহাড় ও ঝর্ণাভিত্তিক পর্যটন এলাকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো এবং এ খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।