নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি এই দুঃসাহসিক কাজ করে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেখানে অবস্থানরত অস্থায়ী ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশ কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। সোমবার রাত তিনটার দিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি দূর থেকে ছোট একটি কাপড়ের দলায় কেরোসিন বা পেট্রলজাতীয় পদার্থ ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে সেটি স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে মারে। এতে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি আগুন লাগার ভিডিও ধারণ করেন এবং মঙ্গলবার বিকেলে সেটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসেন। তিনি বলেন, "জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে একজন সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে পাঁচ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। রাতে ক্যাম্পে থাকা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
অন্যদিকে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, এই ঘটনায় স্মৃতিস্তম্ভের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, "ঘটনার পর আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে গত বছরের ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা।