প্রায় শতবর্ষী দাদির মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা বৈদ্যুতিক চুল্লির (চিতা) ভেতরে ঝাঁপ দিয়ে সহমরণের চেষ্টা করলেন নাতি। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপ মহাশ্মশানে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

শ্মশানকর্মী ও উপস্থিত স্বজনদের চেষ্টায় যুবককে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনায় যুবকের মুখ ও চোখ আংশিক পুড়ে গেলেও হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানের স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন গেদে এলাকা থেকে মৃত বৃদ্ধা টুকুবালা মন্ডলের দেহ দাহ করার জন্য নদীয়ার নবদ্বীপ মহাশ্মশানে নিয়ে আসা হয়েছিল। শেষকৃত্যের নিয়ম মেনে বৃদ্ধার মৃতদেহটি বৈদ্যুতিক চুল্লিতে (চিতা) প্রবেশ করানোর জন্য ট্রলির ওপর রাখা হয়েছিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মৃত বৃদ্ধার নাতি ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস (৩০) আচমকাই সেই ট্রলির ওপরে থাকা মরদেহের ওপর লাফিয়ে পড়েন। ততক্ষণে ট্রলিটি খোলা বৈদ্যুতিক চুল্লির ভেতরের দিকে এগোতে শুরু করেছিল।

দৃশ্যটি দেখামাত্রই মহাশ্মশানে উপস্থিত লোকজনের চিৎকারে হুলুস্থুল পড়ে যায়। বিপদ বুঝে দ্রুত চুল্লির সামনে পৌঁছে শ্মশানকর্মী ও স্বজনরা ইন্দ্রজিৎকে টেনে বাইরে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের উত্তাপে তার চোখ, মুখসহ শরীরের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

তবে ঠিক কী কারণে ওই যুবক জলন্ত চুল্লিতে ঝাঁপ দিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় যুবকটি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

অন্যদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ও কেন তিনি মরদেহের সঙ্গে চুল্লিতে ঝাঁপ দিতে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।