কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলায় উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান তৃণমূলের সোমনাথ দেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর একটি গেস্টহাউস থেকে তাঁকে আটক করা হয়, যেখানে তিনি পালিয়ে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় এই নারী চিকিৎসক ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই মরদেহ দাহ সংক্রান্ত বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। অভয়ার মা–বাবা অভিযোগ করেন, রাজ্যের ক্ষমতা বদলের পর তাঁদের কন্যার মরদেহ তাঁদের না দেখিয়ে জোর করে পানিহাটি শ্মশানে দাহ করা হয়। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারেট মামলাটি তদন্ত শুরু করে।
মামলাটির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ আগস্ট আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসেন পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নির্মল ঘোষ এবং তৃণমূলের আরও দুই নেতা অভয়ার মরদেহ পিতা–মাতাকে শেষবারের মতো না দেখিয়ে এবং সৎকারের শাস্ত্রীয় নিয়মকানুন না মেনে জোরপূর্বক ‘ভিআইপি’র মর্যাদা দিয়ে তড়িঘড়ি করে পানিহাটি শ্মশানে দাহ করান। দ্রুত সৎকারের জন্য নির্মল অস্ত্রের হুমকি দেখিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সোমনাথ দেকে বেঙ্গালুরু থেকে গতকাল ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতার খড়দা থানায় নিয়ে আসে। তাঁকে বারাকপুরের মহকুমা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে। আজ সকালে যখন তাঁকে খড়দা থানা থেকে আদালতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন স্থানীয় লোকজন ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তাঁর দিকে ডিম ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।