কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মৃত ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, নবগঠিত সেই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী একাধিক ব্যক্তির নাম স্থান পাওয়ায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিটির তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে, সোমবার (২০ জুলাই) নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা এবং সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির ১৭১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়।

কমিটির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে ১৮ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে রামখানা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাখারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের নাম।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আফাজ উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে মারা গেছেন। সে সময় তার জানাজায় উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নেন। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলীয় সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বশীলদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, শুধু মৃত ব্যক্তিই নন, এই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক ভাবধারার ব্যক্তিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের কমিটিতে এমন অনেককে রাখা হয়েছে, যারা গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। দুর্দিনে যারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে বিতর্কিতদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পদবঞ্চিতদের। ঘটনাটিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল হিসেবে দেখছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের আন্দোলনকারী নেতারা।

এদিকে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রামখানা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান।

আফাজ উদ্দিনের কবর জিয়ারতের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, মরহুমের মৃত্যুর পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার নেতৃত্বেই নেতারা তার কবর জিয়ারত ও মাগফিরাত কামনা করেছিলেন। এরপরও কীভাবে তাকে জীবিত দেখিয়ে কমিটিতে স্থান দেওয়া হলো?

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মরহুম আফাজ উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা বাড়িতে এসে কবর জিয়ারত ও দোয়া করেছিলেন।

বিষয়টিকে ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করে রামখানা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সবুর উদ্দিন (বিএসসি) বলেন, ভুলবশত তার নাম কমিটিতে চলে এসেছে। আফাজ উদ্দিন দলের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী ছিলেন। তবে উপজেলা কমিটি যে তিনি মারা গেছেন—বিষয়টি হয়তো তাদের জানা ছিল না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।