রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত চেয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো যেন দূরে সরে না যায়। সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাটিটিউডটা এ রকম ছিল...যেহেতু উনি ক্ষমতায় আছেন, যারা ক্ষমতায় নেই বা দূরে আছে, কাছের লোকগুলো তারা যাতে দূরে না চলে যায়।’

বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা ছিল না, তবে আনুষ্ঠানিকতা যথাযথ ছিল। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে যাঁরা যাঁরা যেভাবে চালাচ্ছেন সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’

গত কয়েক মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন, ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে...বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’

সরকারের সাফল্য কামনা করে মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাঁদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ঘন ঘন বৈঠকের প্রস্তাবের বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘সেটা বলেছেন উনি, দেখা যাক যদি করে তারা আমরা বৈঠকে আসব, নিশ্চয়ই আসব। কিন্তু ঘন ঘন বৈঠক হবে, এটা একটা মুখের কথা যেন না হয়ে থাকে।’