ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সংঘাতের backdrop-এ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সোমবার ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর এমন পদক্ষেপের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিল, যা একইসঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
হুতি সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা জানিয়েছে, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তবে হুতিদের এই ঘোষণার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, টানা নবম দিনের মতো গতকাল রোববার দিবাগত রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। দুই দেশের এই সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, তেহরান ও ওয়াশিংটন যখন কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই হুতিরা এই ঘোষণা দিল। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা পুনরায় হ্রাস পায়।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের পথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার জন্য তেহরান হুতিদের ওপর চাপ দিচ্ছিল। এই প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। উল্লেখ্য, উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে বিশ্বে তেল সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।