দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘নিজেদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছে’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামলাচ্ছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর ‘কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ করাকে ‘গণতান্ত্রিক নয়’ বরং ‘ভারতের সংস্কৃতিবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কারিগরি ত্রুটিসহ বিভিন্ন বড় পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (২০ জুলাই) বিক্ষোভকারীরা যখন সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন দিল্লি পুলিশ তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, তরুণরা যা করছে তাতে বিন্দুমাত্র ভুল নেই। সরকার ও পুলিশ তাদের সঙ্গে যে আচরণ করছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয় এবং এটি ভারতের ঐতিহ্যও নয়।
ভিডিও বার্তার পাশাপাশি পুলিশের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর চলা তথাকথিত অভিযানের একটি ভিডিও ফুটেজও শেয়ার করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, দিল্লির রাজপথে নেমে আসা এই তরুণ-তরুণীরা কোনো অপরাধী নয়; তারা তাদের মৌলিক অধিকারের দাবি জানাচ্ছে। তারা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চায় যা তাদের সম্মান দেবে, যা হবে সুষ্ঠু ও কার্যকরী। এসময় তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই তরুণ।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে ২১ দিন ধরে চলা অনশনরত আন্দোলনকারী লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ ও সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুককে শনিবার (১৮ জুলাই) জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরই এই প্রতিবাদের ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিজিপি প্রশ্ন তোলে, এটা কি কোনো যুদ্ধক্ষেত্র? কেন পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস হামলা চালাচ্ছে? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মধ্য দিল্লির কয়েকটি স্থানে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং জানায় যে এই বিক্ষোভের কোনো অনুমতি ছিল না।