ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভ দমনে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, লাঠি চার্জ, দোকান-পাট ও বিভিন্ন রাস্তার মোড় বন্ধ ও ইন্টারনেট বন্ধ করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের পুলিশ। এক্ষেত্রে পুলিশ যথাযত নিয়ম মানছে কিনা- এমন একটি আবেদনের শুনানির সময় দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা।

সোমবার (২০ জুলাই) শুনানির সময় দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার একটি বেঞ্চ দিল্লি পুলিশের কাছে জানতে চান, তারা নজরদারি ও দমন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা দেখেছে কিনা। বেঞ্চ সরকারের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে প্রশ্ন করেন, দিল্লি পুলিশ কি সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেছিল?

হাইকোর্টে এই আবেদনটি দায়ের করেছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জেএনইউএসইউ) সাবেক সভাপতি ঐশী ঘোষ। আবেদনের পক্ষে যুক্, গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভকারীদের অনবরত ছবি তোলা হচ্ছে এবং ভিডিও করা হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি স্থায়ী নজরদারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের চব্বিশ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই পর্যবেক্ষণ কেবল বিক্ষোভের নথিবদ্ধকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি তাদের খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দৃশ্যও ধারণ করছে।

ঐশী ঘোষ দাবি করেছেন, নারী বিক্ষোভকারীরা যখন বৃষ্টিতে ভিজছিলেন, তখনও তাদের ছবি তোলা ও ভিডিও করা হয়েছে।

২০১৭ সালের একটি রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে গোপনীয়তাকে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের একটি অন্তর্নিহিত অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই রায়টি মূলত ‘আনুপাতিকতার পরীক্ষার’ ভিত্তি স্থাপন করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের যেকোনো নজরদারি অবশ্যই বৈধ, প্রয়োজনীয় এবং উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

আদালতের প্রশ্নের জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, সেখানে কোনো নজরদারি চালানো হচ্ছে না। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, যন্তর মন্তরে প্রতিটি প্রতিবাদ কর্মসূচি সবসময় রেকর্ড করা হয়। এই বিক্ষোভে শত শত মানুষকে ভিডিও এবং রিলস বানাতে দেখা গেছে। এটি কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশে করা হচ্ছে। এখানে কোনো নজরদারি নেই।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিন ধার্য করেন।

সূত্র: এনডিটিভি