১৬ জুলাই মুক্তকণ্ঠের বিশেষ সংখ্যায় (‘অভ্যুত্থানের অন্দরে’) ‘চব্বিশের কাঠগড়ায় প্রগতিশীল রাজনীতি’ শিরোনামে লেখক ও রাজনৈতিক সংগঠক ফিরোজ আহমদের একটি লেখা প্রকাশিত হয়। এ লেখার প্রতিক্রিয়া লিখেছেন জামশেদ আনোয়ার তপন, দিলীপ রায়, ইকবাল কবীরমারজিয়া প্রভা

.

১৬ জুলাই মুক্তকণ্ঠয় লেখক ও রাজনৈতিক সংগঠক ফিরোজ আহমেদ ‘চব্বিশের কাঠগড়ায় প্রগতিশীল রাজনীতি’ শীর্ষক একটি লেখা লিখেছেন। লেখাতে তিনি বলেছেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে এ দেশের “প্রগতিশীল” হিসেবে পরিচিতদের ভূমিকা বেশ নাজুক ছিল।’ লেখালেখির গণতান্ত্রিক চর্চাকে সমর্থন করে আমরা বিভিন্ন দল ও সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এ লেখার বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যার বিপক্ষে অবস্থান তুলে ধরছি।

আমরা কারা? আমরা কমিউনিস্ট, বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক ধারার বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী, যারা চব্বিশের জুলাইয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি, যাদের রাজনৈতিক লড়াই ও সংগ্রামকে লেখক চব্বিশের কাঠগড়ায় তুলতে চেয়েছেন, যার মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক বয়ানকেই হাজির করেছেন মাত্র। এ লেখায় ‘প্রগতিশীল’ বলতে যে বর্গকে হাজির করা হয়েছে, তা হলো উদারমনা, উদার গণতান্ত্রিক চিন্তা, বামপন্থীদের ‘বনেদি অংশ’, সংস্কৃতিমনা মধ্যবিত্ত প্রভৃতি। কিন্তু লেখায় এই প্রগতিশীল বর্গের কোনো রাজনৈতিক সুনির্দিষ্ট পরিচয় হাজির করা হয়নি।

.চব্বিশের জুলাইয়ে ‘ভালো মানুষ’ যখন নীরব ছিল.

এ লেখায় প্রগতিশীল বর্গের রাজনৈতিক পক্ষ স্পষ্ট না হলেও ‘উদারপন্থী ও প্রগতিশীলদের দিক থেকে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে ১৯ জুলাইয়ের গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশকে একটিমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে লেখকের রাজনৈতিক পক্ষ পরিষ্কার হয়েছে। তাই এ লেখা নিছক সমালোচনার স্তর ছাপিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে লেখক তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ইতিহাসের ওপর জোরপূর্বক আরোপের চেষ্টা করেছেন। (লেখক ফিরোজ আহমেদ রাজনৈতিক দল গণসংহতি আন্দোলনের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদের’ অন্যতম সদস্য এবং গণসংহতি আন্দোলন গণতন্ত্র মঞ্চের জোটভুক্ত দল ছিল। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে গণসংহতি বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে নির্বাচন করেছে।)

.

লেখক ১৯ জুলাইয়ের গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যেন সেটিই পুরো গণ-অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের সমালোচনার একমাত্র মানদণ্ড। আসলে আমরা সবাই জানি, বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ১৯ জুলাই-ই শেষ কর্মসূচি ছিল না কিংবা গণ-অভ্যুত্থানের শেষ দিনও ছিল না। এরপর অনেক লাশ পড়েছে, কারফিউ জারি হয়েছে, ইন্টারনেট শাটডাউন করে জনগণকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। লেখকের উল্লেখিত ’৫২, ’৬২, ’৬৯, ’৮২, ’৯০ গণ-অভ্যুত্থান এবং গণ-আন্দোলনগুলোর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শক্তিগুলো নানান কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে জনগণকে সংগঠিত ও ত্বরান্বিত করেছে।

.

ফিরোজ আহমেদ কেন চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে এই কৌশলগুলো দেখতে পাচ্ছেন না বা চাইছেন না, তা একটি বড় প্রশ্ন। কারফিউ চলাকালে শিক্ষার্থীদের (বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন) কর্মসূচি মন্থর হয়ে যাওয়া এবং জনগণকে আবার সোচ্চার করার জন্য কারফিউ ভাঙার সিদ্ধান্তে ৩১টি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন (বর্তমানে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য) মিলে সাংস্কৃতিক সমাবেশ করার ‘কৌশলটি’ নিয়েছিল, যেখানে বামপন্থী হিসেবে পরিচিত গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটসহ বিভিন্ন কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দলের কর্মীরা অংশ নিয়েছিলেন। এরপর একে একে নারীদের সমাবেশ, প্রতিবাদী গানের মিছিল সংগঠিত হতে থাকে।

এই ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনকে নিশ্চিত করতে জনগণের একটি সম্মিলিত বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রধানতম রাজনৈতিক কর্তব্য হয়ে ওঠে। তারই পরিণত রূপ ‘দ্রোহযাত্রা’, যা আহ্বান করেছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ফিরোজ আহমেদকে ধন্যবাদ তিনি দ্রোহযাত্রা ও আনু মুহাম্মদকে তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি একটি দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে নিজেও জানেন, ওই পরিস্থিতিতে এই ‘দ্রোহযাত্রা’ কোনো একক ব্যক্তির আহ্বানে সংগঠিত হওয়া সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এবং সেই জোটের সংশ্লিষ্ট কমিউনিস্ট ও বামপন্থী ধারা রাজনৈতিক দলগুলো, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারীদের সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন—সবার সংগঠিত ভূমিকাই ‘দ্রোহযাত্রা’।

.
গণ-অভ্যুত্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণের পরিবর্তে এখানে ব্যক্তিগত অনুমান, সুবিধামতো বাছাই করা তথ্য এবং পক্ষপাতমূলক বয়ানই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের ময়দানের বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষভাবে অনুধাবন না করার সীমাবদ্ধতা এ লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে। আর যদি তা না হয়, তবে এ লেখা কমিউনিস্ট, বামপন্থী ও বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি বিদ্বেষমূলক ধারণা প্রতিষ্ঠার সচেতন প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
.

এই দ্রোহযাত্রায় যাতে উদারপন্থী সব মত ও পথের সম্মিলন ঘটে, তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংহতির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিষদের সদস্যের সঙ্গে আয়োজকের পক্ষ থেকে আলাপ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এবং ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীল দল বাদে সব উদার ও প্রগতিশীল বর্গকে হাজির করার জন্য দ্রোহযাত্রার সংগঠকেরা সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু লেখক গণ-অভ্যুত্থানে কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দল এবং গণসংগঠনগুলোর গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে সক্রিয় প্রচেষ্টাকে আড়াল করেছেন। এটি তাঁর বৌদ্ধিক দ্বিচারিতা।

ফিরোজ আহমেদ ১৯ জুলাই গণতন্ত্র মঞ্চের আন্দোলনের পর সামগ্রিক চিত্রের অবসানে বড় ভূমিকা না পালন করার দায় ‘বনেদি বামপন্থীদের’ কাঁধে দিয়েছেন (এই বনেদি বামপন্থী কারা, তাঁর লেখায় সেটি স্পষ্ট করেননি)। কিন্তু তিনি উল্লেখ করেননি যে গণতন্ত্র মঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই সাধারণ সরকারবিরোধিতা ছাড়া বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কর্মসূচিগত কোনো সমঝোতা ছিল না; বরং যুগপৎ কর্মসূচি তাঁরা চালিয়েছিলেন বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে। অথচ গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে কেন সামগ্রিক চিত্রের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারেনি, তার কোনো সমালোচনা লেখক করেননি। উল্টো যাদের সঙ্গে তাদের কোনো কর্মসূচিগত সম্পর্কই ছিল না, তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।

.

৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় লেখক, তাঁর দল ও জোট সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। অথচ জোটের পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং যে কোটারি রাজনীতির সমালোচনা তিনি তাঁর লেখায় করেছেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক জোট সেই কোটারি রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল।

২ আগস্ট কমিউনিস্ট ও বামপন্থী শক্তিগুলো উদার গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ নিলেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় তাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে এটিও সত্য যে ১৯ জুলাইয়ের পর গণতন্ত্র মঞ্চ এমন কোনো কর্মসূচি নেয়নি, যা অভ্যুত্থানের পক্ষে বামপন্থী, কমিউনিস্ট, উদার ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে পারত।

.

প্রশ্ন হলো, সরকার পতনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত করার জন্য তিনি, তাঁর দল বা জোট কি কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে? লেখক ও তাঁর দল যখন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তখন দ্রোহযাত্রার আহ্বায়ক আনু মুহাম্মদ বা কমিউনিস্ট, বামপন্থী ও অন্য অভ্যুত্থানপন্থী শক্তি ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা অংশগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছিল? না, নেয়নি।

রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়াই সরকার গঠনের পর দেশজুড়ে মব-সহিংসতা, নারী, মাজার ও বাউল সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলার দায় লেখক কার্যত প্রগতিশীল শক্তির ওপর চাপিয়েছেন। এ দৃষ্টিভঙ্গি নিজেই কোটারিকেন্দ্রিক। কারণ, তিনি প্রগতিশীল শক্তিকে কেবল গণ-অভ্যুত্থানের সহযোগী বা সরকারের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি হিসেবে দেখতে চান, অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক রূপান্তর, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও সরকার গঠনের অংশীদার হিসেবে নয়। এ প্রবণতা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিজের হাতে রেখে অন্য ধারার রাজনীতিকে ‘বনসাই’ বানানোর আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ করে, যা মোটেই কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়।

.

রামপালসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রকল্প ও অসম চুক্তির বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দলগুলো হরতাল, ঘেরাওসহ সবচেয়ে ধারাবাহিক ও কঠোর আন্দোলন পরিচালনা করেছে। এসব আন্দোলন পরিচালনায় কখনো কখনো দলীয় সংকীর্ণতাসহ অন্যান্য ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকতে পারে। কিন্তু কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হাজির না করে ভারতের আগ্রাসী নীতির প্রতি বামপন্থীদের ‘কোমল’ মনোভাবের অভিযোগে লেখক তাঁদের ঢালাও মন্তব্য করেছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

.

লেখক বলেছেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর ছাত্ররাজনৈতিক কর্মীরা সেখানে আর সংগঠন আকারে হাজির হচ্ছেন না, হচ্ছেন ব্যক্তি হিসেবে।’ সাংগঠনিক পরিচয়ে উপস্থিত হতে না পারার কারণ হিসেবে তিনি কেবল জোট এবং অপরাপর সংগঠনগুলোকে অভিযুক্ত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এক দশকের বেশি সময় ধরেই রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয়ের বাইরে ‘নিরপেক্ষ’ভাবে ‘সাধারণদের’ আন্দোলন সংগঠিত করার প্রবণতা চলছিল।

এর ধারাবাহিকতা এবারের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেও পরিলক্ষিত হয়েছে। শুধু প্রগতিশীল বামপন্থী সংগঠনগুলো নয়, ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক পরিচয়ে তারা আন্দোলনে শরিক না হয়ে স্বতন্ত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ গড়ে তুলেছিল। বামপন্থীদের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে না রাখার পক্ষে সমন্বয়কেরা নানান কৌশলও নিয়েছিলেন। যার কারণে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সংগঠনের কাউকে না দেখা গেলেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে জোটভুক্ত সংগঠনের নেতাদের দেখা গেছে।

.

লেখক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অন্যতম মৌলিক শর্ত ‘নাগরিক’ পরিচয়ের বাইরে বহু জাতি ও ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত হয়নি। একইভাবে ‘গণভোট’কে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ব্যবহার করেও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক দল জনগণের সঙ্গে প্রহসনে শামিল হয়েছে। ফলে প্রগতিশীলদের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর লেখায় সরকারি পক্ষের বনেদি প্রগতিশীলতারই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। যেমন একসময় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদ ঠেকানোর যুক্তিতে হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন কিংবা দিলীপ বড়ুয়ার মতো ‘বনেদি বামপন্থীরা’ আওয়ামী সরকারের অংশ হয়েছিলেন, তেমনি আজও ডানপন্থা প্রতিরোধের নামে তিনি মার্কিন স্বার্থ রক্ষাকারী, শ্রমিক হত্যাকারী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালানো অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষেই প্রগতিশীলদের অবস্থান প্রত্যাশা করছেন।

.

সব মিলিয়ে ফিরোজ আহমদের এ লেখা কোনো নির্মোহ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ নয়। গণ-অভ্যুত্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণের পরিবর্তে এখানে ব্যক্তিগত অনুমান, সুবিধামতো বাছাই করা তথ্য এবং পক্ষপাতমূলক বয়ানই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের ময়দানের বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষভাবে অনুধাবন না করার সীমাবদ্ধতা এ লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে। আর যদি তা না হয়, তবে এ লেখা কমিউনিস্ট, বামপন্থী ও বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি বিদ্বেষমূলক ধারণা প্রতিষ্ঠার সচেতন প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

  • জামশেদ আনোয়ার তপন, আহ্বায়ক, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য

  • দিলীপ রায়, সভাপতি, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী

  • ইকবাল কবীর, সম্পাদক, ঢাকা মহানগর, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ

  • মারজিয়া প্রভা, সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

  • মতামত লেখকদের নিজস্ব