বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। তবে স্কোরলাইন যতটা কাছাকাছি ছিল, পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় স্পেনের আধিপত্য ছিল তার চেয়েও বেশি। কেন হারল আর্জেন্টিনা? দেখে নেওয়া যাক পাঁচটি বড় কারণ।

১. মেসি নির্ভরতার খেসারত

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন লিওনেল মেসি। ফাইনালের আগে তিনি করেছিলেন আট গোল। কিন্তু স্পেনের রক্ষণ তাকে পুরো ম্যাচে কার্যকরভাবে আটকে রাখে।

ম্যাচে মেসির এক্সজি (প্রত্যাশিত গোল) ছিল মাত্র ০.০৪। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাসও দিতে পারেননি। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে মাত্র একবার বল স্পর্শ করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

২. স্পেনের মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই স্পেনের মিডফিল্ড ছিল দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। ফাইনালেও তারা বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

দ্রুত পাস, বল পুনরুদ্ধার এবং ধারাবাহিক চাপের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের অর্ধেই আটকে রাখে স্পেন। ফলে আক্রমণে ওঠার সুযোগই খুব কম পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

৩. এঞ্জো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে পাউ কুবার্সির ওপর ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

একজন কম নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে ১০৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস।

৪. লিসান্দ্রো মার্তিনেজের চোট

প্রথমার্ধের শেষদিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পুরো টুর্নামেন্টে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে তার জুটি ছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম শক্তি।

তার বদলে নিকোলাস ওতামেন্দিকে নামাতে হয় কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। এতে রক্ষণে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পিছন থেকে বল এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও কমে যায়।

৫. আক্রমণে চরম ব্যর্থতা

ফাইনালের আগে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটি শটও নিতে পারেনি তারা।

পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার শট ছিল মাত্র দুটি। অন্যদিকে স্পেন নির্ধারিত সময়েই ২০টি শট নেয়, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। এক্সজি (প্রত্যাশিত গোল) হিসাবেও স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে। তাদের এক্সজি ছিল প্রায় ১.৯৪, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ০.১৭।

স্পেনের দাপুটে মিডফিল্ড, মেসিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া রক্ষণ, আর্জেন্টিনার লাল কার্ড, গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডারের চোট এবং আক্রমণভাগের ব্যর্থতা—সব মিলিয়েই ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া হয় লিওনেল স্কালোনির দলের।