খুলনার কয়রা উপজেলার ১২৭ নম্বর শিমলার আইট খেজুরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বৃক্ষরোপণ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দেয়ালে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‘জয় বাংলা’ দীর্ঘদিনেও অপসারণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
গত ১৮ জুলাই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সম্প্রতি কোনো গাছের চারা রোপণ করা হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দেওয়ালে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‘জয় বাংলা’ এখনো স্পষ্ট দৃশ্যমান।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, সম্প্রতি তাদের বিদ্যালয়ে কোনো গাছের চারা লাগানো হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম মোল্লা বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো নতুন গাছের চারা রোপণ করতে দেখিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদারুল ইসলাম এবং যুবদল নেতা কামাল উদ্দিন ও জিয়াউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। সরকার পতনের দুই বছর পরও বিদ্যালয়ের দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ লেখা রেখে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়নি।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি হতো। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানে অবহেলা এবং সার্বিক উন্নয়নে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনামতে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৫ জুলাই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন শ্রেণির সমন্বয়ে অন্তত পাঁচটি গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ স্বীকার করে বলেন, ১৫ জুলাই আমরা গাছের চারা রোপণ করিনি। তবে দেওয়ালের লেখার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, এমন কোনো লেখা রয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। আমি কখনো এই লেখা দেখিনি।
কয়রা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল আলম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক লেখা দীর্ঘদিন থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বৃক্ষরোপণ না করা উদ্বেগের বিষয়। দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, গাছের চারা রোপণ এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের লেখা বা ছবি অপসারণের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়কে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় পাঁচজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার স্থলে বর্তমানে মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন; তবুও তারা তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তে কোনো শিক্ষকের অবহেলার প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।