বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ার স্প্যানিশ ফুটবল সমর্থকদের ‘লা রোজা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয় ও ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির বিদায়ের বিষাদকে ছাপিয়ে বিশ্বজয়ের উৎসবে মেতে ওঠে স্পেনের নতুন প্রজন্ম।
সোমবার (২০ জুলাই) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেকের কাছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট জয় ছিল এক দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ অভিযানের চূড়ান্ত ফল। রোববার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের এই ঐতিহাসিক বিজয় স্প্যানিশ ফুটবলের এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করেছে। এই দলটির গড় বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর, যার আক্রমণের মূলভাগে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লাসরত ৩৩ বছর বয়সী স্প্যানিশ সমর্থক জোয়ান ওয়াসন বলেন, ‘আমার মনে হয় শিশু ইয়ামালের সঙ্গে আর্জেন্টিনার তরুণ লিওনেল মেসির সেই ভাইরাল ছবিটির মধ্যে নিঃসন্দেহে এক অদ্ভুত প্রতীকী মিল রয়েছে।’
তবে ফাইনালের লড়াইটি মোটেও সহজ ছিল না। স্পেন হয়তো পুরো ম্যাচে বল দখলে আধিপত্য দেখিয়েছিল এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকে আর্জেন্টিনাকে বেশ পেছনে ফেলেছিল; কিন্তু মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল একগুঁয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ পর্যন্ত স্কোরলাইন ০-০ সমতায় ধরে রাখে তারা।
গণমাধ্যমটি জানায়, ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। তবুও তাৎক্ষণিকভাবে পরাজয় মানেনি ‘লা আলবিসেলেস্তে’রা। তবে এর ১৩ মিনিট পর, ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের লক্ষ্যভেদী গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য ও বিশ্বমঞ্চের শিরোপা নির্ধারণ করে দেয়।
প্রতিবেদনে তরুণ দলটিকে নিয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পেদ্রির অনুভূতি তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ফুটবল দলটিকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। আমি মনে করি, একটি দেশ হিসেবে আমাদের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তারা তারই প্রতিনিধিত্ব করে। তারা স্প্যানিশ জনগণের পরিচয়েরই এক একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের এখন বিশ্বজয় উদযাপন করতে হবে; অতীত বা ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে আমাদের দেখতে হবে—আমরা এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন!’