উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মঙ্গলেশ্বরী, গণেশ্বরী, বাখলা ও মহাদেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, পুকুর এবং শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে।
সোমবার বেলা একটার দিকে কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৭৩ মিটার।
পানির তীব্র চাপে গজারমারি থেকে খারনৈ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের শ্রীপুর এলাকায় অন্তত পাঁচটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানান খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওবায়দুর হক। এছাড়া ঢলের পানিতে গণেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধা পাকা ভবনের অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে। আজ সকালে সহকারী শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন জানান, "বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোমরসমান পানি আছে।"
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী, কংস, মগরা, ধনুসহ অন্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে।"
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামে, যার ফলে পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কলমাকান্দা কার্যালয়ের প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামছুজ্জামান আসিফ বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ইউপি চেয়ারম্যানদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করা হবে।