উগ্র ডানপন্থী এবং ঐতিহাসিকভাবে গণহত্যাকারীরা বর্তমানে সংস্কারের রাজনীতির একমাত্র ধারক-বাহক হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। আজ রোববার সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চের ওপর হামলার ২ বছর: সংস্কারের রাজনীতির পূর্বাপর ও আজকের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সভাটির আয়োজন করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিবর্তিত ও অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ নামক জোটের অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে শেখ হাসিনার ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদের জোট হিসেবে একসময় এটি দেশের মানুষের কাছে আশার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ানোর বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

গণতন্ত্র মঞ্চকে জোটগতভাবে সংস্কারের রাজনীতির পথিকৃৎ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, মঞ্চের কিছু নেতৃত্বের পরবর্তী রাজনৈতিক স্বার্থপরতা ও লক্ষ্যহীনতার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সংস্কারের রাজনীতি এক বড় ধরনের অভিভাবকহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে।

হাসনাত কাইয়ূম জানান, গত এক বছর বিএনপি ও জামায়াত জোটের বাইরে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ প্লাস’ নামে একটি শক্তিশালী তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই প্রচেষ্টা সফল হলে সংস্কারের রাজনীতিতে বর্তমানের এই দিশাহারা ও অভিভাবকহীন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলে তিনি মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সময়মতো সেই কাঙ্ক্ষিত বিকল্প শক্তিটি সফলভাবে গড়ে তুলতে পারি নাই।’

নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মানদণ্ড বা ফিল্টারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আপনার রাজনীতিতে আপনি ফার্স্ট নাকি বাংলাদেশ ফার্স্ট? অভ্যুত্থান-পরবর্তীতে আপনি নিজের স্বার্থে ছিলেন নাকি জনগণের স্বার্থে ছিলেন? রাজনীতি এখন এই নতুন মানদণ্ডে বিবেচনা করতে হবে।’

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম জাবির, অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুল আলম চৌধুরী, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) সংগঠক বাকী বিল্লাহ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন এবং জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ প্রমুখ।