বগুড়ার মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ, স্থাপনা নির্মাণ এবং মাটি খনন বন্ধ রাখার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী মঙ্গলবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি মুলতবি করে এই সিদ্ধান্ত নেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৫ মার্চ দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ চলতি মাসে লিভ টু আপিল দায়ের করেছে সরকারপক্ষ। এই আবেদনে ৫ হাজার ২৭৯ দিনের বিলম্ব মার্জনা এবং হাইকোর্টের রায় স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে ১৪ জুলাই লিভ টু আপিলটি চেম্বার আদালতে উঠলে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। শুনানি শেষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রাখা হয়েছে।"
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালের শেষ দিকে, যখন মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। ওই রিটে মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট করে স্থাপনা নির্মাণ, মাজার সম্প্রসারণ ও প্রত্নস্থলে খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল।
২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট ওই রিটের রায়ে এ-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় অবৈধ দখল প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রত্ন স্মারক এলাকার পূর্ব পাশে ২০০ ফুট দূরে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয় রায়ে।
পরবর্তীতে মহাস্থানগড়ে দখল সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালে এইচআরপিবি পুনরায় আবেদন করলে, ৫ মার্চ হাইকোর্ট স্থানীয়দের মাটি খনন ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েনসহ বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।
সরকারের লিভ টু আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্টের আদেশের কারণে মহাস্থানগড় এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঐতিহাসিক স্থানটিকে দর্শনার্থীবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পবিত্র ও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় মসজিদ উন্নয়নে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও আদালতের আদেশের কারণে কোনো কাজ শুরু করা যায়নি।