স্লুইসগেটের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে এখন থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই দায়িত্ব এখন থেকে পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা। শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদের মাঠে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘোষণা দেন।

নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি নিয়মিত বাস্তবতা। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, যাতে উপকূলীয় এলাকা আরও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত থাকে।"

অভ্যন্তরীণ পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি জানান, যেসব খালের মুখ বন্ধ রয়েছে সেখানে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সহজে বের হয়ে যেতে পারে। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্যার সময় স্লুইসগেট না খোলার কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে বলে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার নতুন অনুশাসন জারি করেছে। তিনি বলেন, "এখন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইসগেটের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে না। এর পরিবর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এ দায়িত্ব পালন করবেন।"

তিনি আরও বলেন, "এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনের সময় স্লুইসগেট খুলে পানিনিষ্কাশন এবং প্রয়োজনে গেট বন্ধ রেখে লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ করা সহজ হবে। এতে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমবে এবং স্লুইসগেটের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।"

উল্লেখ্য, চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় মোট ১০৩টি স্লুইসগেট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির মতো অকেজো থাকলেও বাকিগুলো সচল ছিল। তবে বন্যার সময় বেশির ভাগ গেট বন্ধ থাকায় লোকালয় প্লাবিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের চেষ্টা সত্ত্বেও পাঁচ দিনে সব স্লুইসগেট সচল করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্লুইসগেটের বেশির ভাগই বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পেকুয়া উপজেলা মাঠে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০০ ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "সরকারের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের যেকোনো বিপদ-আপদে পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।" এরপর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিতরণকৃত সামগ্রী পরিদর্শন করেন।

দুই দিনের সফরে শুক্রবার কক্সবাজার আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম দিন চকরিয়ার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি পেকুয়া পৌরসভা, মেহেরামা, বারবাকিয়া, শিলখালী, টৈটং, মগনামা ও রাজাখালী এলাকা পরিদর্শন করেন।