ভারতে প্রথমবারের মতো চালু হলো যাত্রীবাহী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন। ডিজেল, পেট্রল কিংবা বিদ্যুতের পরিবর্তে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে পরিচালিত এই ট্রেনটিকে পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ ট্রেন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার হরিয়ানা রাজ্যের জিন্দ রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের যাত্রা ভারতের রেলওয়ের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। এই ট্রেন দেশবাসীর গর্বের দুয়ার খুলে দিয়েছে।”

ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ড গত ২২ মে এই ট্রেনে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন প্রদান করে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত রুটে চলাচল করবে। প্রায় ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৭৫ থেকে ১১০ কিলোমিটার। জিন্দ স্টেশনে স্থাপিত একটি বিশেষ হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশনের মাধ্যমে ট্রেনটিতে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে পরিচিত হাইড্রোজেনের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতে এই ট্রেন চলে। ফলে এখান থেকে কার্বন নিঃসরণ বা ধোঁয়া নির্গত হয় না; পরিবর্তে নির্গত হয় মূলত জলীয় বাষ্প। উল্লেখ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চীনের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তিতে ট্রেন ও বাস চালুর ক্ষেত্রে এগিয়েছে।

ভারতীয় রেলের দেওয়া তথ্যমতে, ২ হাজার ৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ইঞ্জিনসংবলিত এই ট্রেনটিতে ১০টি কোচ রয়েছে, যাতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। প্রতিটি পাওয়ার কারে রয়েছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। প্রতিটি পাওয়ার কার ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্রেনটিতে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, আগুন ও শিখা শনাক্তকারী, ধোঁয়া শনাক্তকরণ এবং তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভারতীয় রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই ট্রেনটির নকশা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে উত্তর ভারতের কালকা-শিমলা রুটেও এ ধরনের হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।