গৃহবন্দী অবস্থায় থাকা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে আগামী ৩০ দিন কারো সাক্ষাৎ করতে পারবেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে কেবল তাঁর আইনজীবীরা এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিরাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
গত শুক্রবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরাইস এই রায় প্রদান করেন। বিচারপতি মোরাইসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জইর বলসোনারোর ছেলে এবং আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর একটি পোস্ট সাবেক প্রেসিডেন্টের গৃহবন্দী থাকার শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছে।
বলসোনারো পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যেই এই সপ্তাহান্তে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর বাবার লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ওই চিঠিতে জইর বলসোনারো লিখেছেন, ‘এখন সব ধরনের মতপার্থক্য পাশে রেখে সবার আমার ছেলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারকে সমর্থন করার জন্য একত্র হওয়ার সময় এসেছে।’
২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বলসোনারো। সেই পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত বছর তিনি ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড পান। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা বিবেচনা করে চলতি বছর তাঁকে কারাগারে না রেখে গৃহবন্দী রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গৃহবন্দী থাকার শর্তানুসারে, তিনি নিজে অথবা কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে টেলিফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না।
সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনজীবীর কাছে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
চিঠি প্রকাশের ঘটনায় বিচারপতি মোরাইস চলতি সপ্তাহেই সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর ওপর তাঁর বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবে ফ্লাভিও বলসোনারো এই সিদ্ধান্তকে ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
পাশাপাশি, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো সাক্ষাৎ করা বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন বিচারপতি মোরাইস।