চীনের এক ব্যস্ত বাজার থেকে সাড়ে তিন দশক আগে নিখোঁজ হওয়া ঝং ফেংলিন অবশেষে তাঁর জন্মপরিবারের দেখা পেয়েছেন। গত ৭ জুলাই গুয়াংজি প্রদেশের ইউলিনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর তাঁর সঙ্গে জন্মদাত্রী মায়ের আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯১ সালে। ন্যানিংয়ের একটি বাজারে ঝং-এর বাবা-মা আদা ও রসুন বিক্রি করতেন। একদিন বাবার দোকানের সামনে থেকে খাবার কিনতে গিয়ে পথ হারিয়ে পাশের বাজারে চলে যান দুই বছর বয়সী শিশু ঝং এবং সেখানেই তিনি নিখোঁজ হন।

সেই সময় বাজারের এক পোশাক বিক্রেতা শিশুটিকে কাঁদতে দেখে উদ্ধার করেন। বাজারের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলেও কোনো অভিভাবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ওই বিক্রেতা ঝংকে অন্য শহরে নিয়ে যান এবং নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেন। বর্তমানে ৩৭ বছর বয়সী ঝং বিবাহিত এবং এক কন্যাসন্তানের জননী।

অন্যদিকে, ঝং-এর আসল বাবা-মা কয়েক দশক ধরে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন। বড় বোনকে খুঁজে পেতে তাঁর ছোট বোন ‘বেবি কাম হোম’ নামক একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বড় বোনের যাবতীয় তথ্য ও ছবি নিবন্ধন করেন। তবে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাঝে ২০২৪ সালে ঝং-এর বাবার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, মৃত্যুর আগমুহূর্তেও ঝং-এর বাবা ছোট মেয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর বড় বোনকে খুঁজে পাওয়া গেছে কি না। শৈশবে মুখে থাকা ক্ষতচিহ্নের কারণে ঝং একসময় ভেবেছিলেন যে তাঁর পরিবার তাঁকে স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছে। তবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আশ্বাসে তিনি পুনরায় নিজের তথ্য প্রকাশ করেন।

গত ১২ এপ্রিল ঝং ওই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করার পর তাঁর বোনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।