ক্ষমতার মোহে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করলে জুলাই বারবার ফিরে আসবে বলে সতর্ক করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে জুলাই শহীদদের স্মরণে এবি পার্টি আয়োজিত এক প্রতীকী কফিনমিছিলের শুরুতে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, "জুলাইয়ের শহীদেরা একাত্তরের শহীদদের বাস্তব অনুসারী। তাঁরা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন তাঁরা তাঁদের সার্থক উত্তরসূরি।"
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও স্লোগানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "জুলাইয়ের স্লোগান ছিল ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা/ দেশটা কারও বাপের না’। যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই বারবার ফিরে আসবে।"
জুলাই বিপ্লবের অর্জন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত তাদের চাওয়া সবকিছুরই প্রাপ্তি পেয়েছে। এর মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতা-কর্মীর মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া এবং নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফলের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মজিবুর রহমান বলেন, একদল এখন ক্ষমতায় এবং অন্য দল প্রধান বিরোধী দলে অবস্থান করছে। এছাড়া যারা জুলাইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠন করে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এখন এই তিন দলের ওপর অর্পিত।
তিনি আরও বলেন, "জুলাই শহীদদের রক্তের দাবি হলো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।"
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে মজিবুর রহমান বলেন, সেই সময় বিএনপি নেতারা জানিয়েছিলেন সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সময় এসেছে। একইসঙ্গে তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ জুলাই শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জুলাই শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। একাত্তরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।"
রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হওয়া প্রতীকিক কফিন মিছিলটি কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড় এবং পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়।