শ্রাবণের মেঘ ও বৃষ্টির দোলাচলের মাঝে আজ শুক্রবার থেকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে গ্রহের মেলা, উল্কাপাত এবং সামার ট্রায়াঙ্গলসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক দৃশ্য। বর্ষাকালে সাধারণত আকাশ মেঘলা থাকলেও, দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বর্ষণের পর মেঘ সরে গেলে ঢাকার আকাশ হয়ে ওঠে অত্যন্ত স্বচ্ছ। ফলে মাসের শেষ দিনগুলোতে বছরের অন্যতম সেরা উল্কাপাতসহ নানা জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় দৃশ্য দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

জুলাইয়ের শেষ দুই সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশে শুক্র গ্রহ উজ্জ্বলভাবে দেখা গেলেও তা দ্রুত দিগন্তের নিচে হারিয়ে যাবে। তবে শেষ রাত ও ভোরের পূর্ব-দক্ষিণ আকাশ থাকবে গ্রহদের দখলে। বলয়ধারী গ্রহ শনি এখন রাত ১০টার পরপরই উদিত হচ্ছে এবং ৩১ জুলাই নাগাদ এটি মাঝরাতে আকাশে বেশ ওপরে দেখা যাবে। সেপ্টেম্বরে শনি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে, তাই জুলাইয়ের এই শেষ দিনগুলো টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনির বলয় ও এর বৃহত্তম চাঁদ টাইটান দেখার জন্য উপযুক্ত সময়। এছাড়া শনি উদিত হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর পূর্ব দিগন্তে মঙ্গলের দেখা মিলবে। সূর্যোদয়ের আগে পূর্ব আকাশে বৃষ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি লাল গ্রহটিকে খালি চোখেই স্পষ্ট চেনা যাবে। অন্যদিকে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বুধ ভোরের আকাশে উপস্থিতি শেষ করে সূর্যের পেছনে চলে যেতে শুরু করবে। বৃহস্পতি ধীরে ধীরে ভোরের আলোয় দৃশ্যমান হতে শুরু করলেও তা দিগন্তের খুব নিচে থাকবে।

জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ডেলটা অ্যাকুয়ারিড উল্কাপাত দেখা যাবে। এই উল্কাপাত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে শুরু হলেও এর সর্বোচ্চ সক্রিয়তা বা পিক দেখা যাবে ২৯ ও ৩০ জুলাই দিবাগত রাতে, বিশেষ করে মাঝরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত। যেহেতু সেই সময়ে অমাবস্যা থাকবে, তাই চাঁদের আলো উল্কা দেখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। আকাশ পুরোপুরি মেঘমুক্ত থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা বা শুটিং স্টার দেখা যেতে পারে, যা কুম্ভ রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের দিক থেকে ছুটে আসতে দেখা যাবে।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে চাঁদের কক্ষপথের পরিক্রমায় বেশ কিছু বিশেষ দৃশ্য দেখা যাবে। ২৪ জুলাই গভীর রাতে ও ২৫ জুলাই ভোরে ক্ষীয়মাণ চাঁদ শনি গ্রহের খুব কাছাকাছি অবস্থান করবে। এই সময়ে ভালো মানের বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে শনির পাশে বরফ দানব নেপচুনকেও খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এছাড়া ২৯ জুলাই অমাবস্যার কারণে আকাশে চাঁদের আলো থাকবে না, ফলে গভীর আকাশের গ্যালাক্সি ও নেবুলা দেখা যাবে।

গভীর রাতে মাথার ঠিক ওপরে দেখা যাবে বিখ্যাত কাল্পনিক ত্রিভুজ সামার ট্রায়াঙ্গল। ভেগা, ডেনেব ও আলটায়ার নামের তিনটি নক্ষত্রের উজ্জ্বল বিন্দু সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র অ্যান্টারেস তার লালচে আভা নিয়ে বৃশ্চিক রাশি নক্ষত্রপুঞ্জের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জ্বলজ্বল করবে।

বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টির পর বাতাসের ধূলিকণা ধুয়ে যাওয়ায় সংক্ষিপ্ত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময়টুকুই গ্রহ-নক্ষত্র দেখার জন্য বছরের সবচেয়ে নিখুঁত সময় হয়ে ওঠে। ২৯ ও ৩০ জুলাই উল্কাপাত দেখার জন্য কোনো বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন নেই; খালি চোখেই আকাশজুড়ে উল্কা দেখা যাবে।

সূত্র: নাস, স্কাইম্যাপ অনলাইন, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম