মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বিশাল ধূলিমেঘের মধ্যে স্ট্রবেরি বা রাস্পবেরি ফলের মতো প্রাকৃতিক শর্করার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন স্পেনের একদল বিজ্ঞানী। এরিথ্রুলোজ নামক এই শর্করার সন্ধান পাওয়া গেছে মহাকাশের চরম শূন্যতায়। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই আবিষ্কারের অর্থ এই নয় যে মহাকাশে কোনো ভিনগ্রহী প্রাণী ফল চাষ করছে। বরং এটি প্রমাণ করে, নক্ষত্রমণ্ডলীর তীব্র শীতল পরিবেশ ও শূন্যস্থানেও জীবনের জন্য অপরিহার্য জটিল যৌগ তৈরি হওয়া সম্ভব।
গবেষকদের ধারণা, ক্ষুদ্র মহাজাগতিক ধূলিকণার ওপর রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই এই প্রাকৃতিক শর্করা উৎপন্ন হয়েছে, যা পরবর্তীতে ধূমকেতুর মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রহে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ে স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজির বিজ্ঞানী ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা বলেন, ‘মহাজাগতিক শূন্যস্থানে শনাক্ত হওয়া এটিই প্রথম শর্করা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের জানায় যে এ ধরনের শর্করা মহাবিশ্বে আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি সাধারণ। এটি পৃথিবীর মতোই অন্যান্য জগতেও জীবন বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা উন্মোচন করে।’
স্পেনের দুটি রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ছায়াপথের কেন্দ্রের নিকটবর্তী জি+০.৬৯৩-০.০২৭ নামের একটি ধূলিমেঘ পর্যবেক্ষণ করেন জিমেনেজ-সেরা ও তাঁর দল। শুরুতে তিন কার্বনবিশিষ্ট সাধারণ শর্করার কোনো চিহ্ন না পেয়ে তাঁরা আশাহত হলেও পরবর্তীতে চার কার্বনবিশিষ্ট শর্করা এরিথ্রুলোজের সংকেত খুঁজে পান। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়েছে, মাইনাস ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রাতেও এই রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটা সম্ভব। মহাজাগতিক ধূলিকণার ওপর গ্লাইকোলালডিহাইড ও ইথিলিন গ্লাইকল নামের দুটি জৈব যৌগ একত্রিত হয়ে এরিথ্রুলোজ তৈরি করে। এই সাধারণ শর্করাগুলো জীবনের শক্তি জোগানোর পাশাপাশি আরএনএ তৈরির মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে।
এই আবিষ্কার প্রসঙ্গে জাপানের তোহুকু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইয়োশিহিরো ফুরুকাওয়া বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের একটি প্রত্যক্ষ আবিষ্কারের অপেক্ষায় ছিলাম। মহাজাগতিক মাধ্যমে তৈরি শর্করা ধূমকেতুর ধুলার মাধ্যমে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহে পৌঁছাতে পারে। গ্রহের পরিবেশ যদি এসব অণু থেকে জীবন তৈরি করতে সক্ষম হয়ে থাকে, তাহলে এ সরবরাহ জীবনের উত্থানকে সহজতর করতে সাহায্য করেছে। যদিও সে নিজস্ব প্রক্রিয়া এখনো অস্পষ্ট।’