আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ঘন চিরহরিৎ বনাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা এক নতুন বাসিন্দার খোঁজ পেয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। যদিও এক দশকের বেশি সময় আগে প্রাণীটি সম্পর্কে ধারণা করা হয়েছিল, তবু দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীদের ক্যামেরায় প্রাণীগুলো ধরা দেয়নি। শেষ পর্যন্ত গোলাপি-কমলা রঙের ঠোঁট এবং কুচকুচে কালো মুখের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বানরটির একটি নতুন প্রজাতির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারছেন গবেষকেরা।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় বানরের এটি পঞ্চম নতুন প্রজাতির সন্ধান।
বিজ্ঞানীরা এই বানরটির লাতিন নাম দিয়েছেন ‘কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস’। তবে স্থানীয় লোকজন এটিকে ‘লিকুয়েলি’ নামে চেনে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের লোমামি ন্যাশনাল পার্কের সুউচ্চ গাছের মগডালে এদের বসবাস।
২০০৮ সালে প্রথমবার বন্য প্রাণী সংরক্ষণবাদীরা এই অদ্ভুত চেহারার প্রাণীর দেখা পেয়েছিলেন। তবে সে সময় ক্যামেরায় কেবল একটি অস্পষ্ট ছবিই ধরা পড়েছিল। এরপর ঠিক ১০ বছর পর ২০১৮ সালে প্রাণীটি আবারও নজরে এলে গবেষকেরা আরও অনুসন্ধান শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী জুনিয়র আম্বোকোর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির একটি আন্তর্জাতিক দল লাজুক স্বভাবের এ বানরের খোঁজে নামে। গভীর অরণ্যে গবেষকদের অডিও রেকর্ডিং, ছবি ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি বানরের সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতি। গবেষণার এ ফল প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত পিএলওএস ওয়ান বিজ্ঞান সাময়িকীতে।
আম্বোকো বলেন, বানরগুলো ‘খুবই লাজুক স্বভাবের’ এবং সাধারণত গাছের অনেক উঁচুতে লুকিয়ে থাকে।
আম্বোকো স্মৃতিচারণা করে আরও বলেন, ‘অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আমরা প্রাণীগুলোর আবাসস্থলের কাছাকাছি ৫২টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ এগুলোকে একবার হলেও দেখেছেন বলে জানিয়েছিলেন।’
ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেট ডেটউইলার বলেন, কলোবাস বানরের কোনো বুড়ো আঙুল থাকে না। বনের একদম উঁচুতে থাকা এসব নিরামিষাশী প্রাণী বীজ ছড়ানো ও উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্গমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষকেরা মনে করছেন, বানরগুলোর উজ্জ্বল ঠোঁট ও মুখের দাগ মূলত নিজেদের দলের সদস্যদের চিনতে বা সঙ্গী আকর্ষণে সহায়তা করে।
তবে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বনের শান্ত ও লাজুক এ প্রাণীদের ভবিষ্যৎ মোটেও নিরাপদ নয়। স্থানীয়ভাবে মাংসের জন্য এদের শিকার করা হয়। নতুন প্রজাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার অন্তত প্রশাসন এই বিরল প্রাণীকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা গবেষকদের।