ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করতে এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) ১০০০ একরের বেশি জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার ফেসবুকে এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আমরা দ্রুত সম্পন্ন করেছি। আজ পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বিএসএফ-এর কাছে জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের যে তালিকা তিনি দিয়েছেন, তাতে মুর্শিদাবাদ জেলা সবার উপরে রয়েছে। ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমানার জন্য সেখানে ৩৩৭ একর জমি দেওয়া হয়েছে, যা মোট হস্তান্তরিত জমির প্রায় ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা, যেখানে ৪২ দশমিক ৭ কিলোমিটারের জন্য ২৪১ দশমিক ০৩ একর জমি দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় অন্যান্য জেলার মধ্যে রয়েছে কোচবিহার (৩৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটারের জন্য ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর), মালদা (২০ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের জন্য ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর), নদীয়া (১৪ দশমিক ৭৯ কিলোমিটারের জন্য ৯৫ দশমিক ১১ একর), দক্ষিণ দিনাজপুর (৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারের জন্য ২৬ দশমিক ৪১ একর), দার্জিলিং (১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটারের জন্য ৪ দশমিক ৩১ একর), উত্তর দিনাজপুর (১ দশমিক ২৮ কিলোমিটারের জন্য ৬ দশমিক ৬১ একর) এবং জলপাইগুড়ি (০ দশমিক ৩১ কিলোমিটারের জন্য ২ দশমিক ১৭ একর)।

এই উদ্যোগের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করতে এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অবিচল রয়েছি।’

উল্লেখ্য, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি কেন্দ্র সরকারের হাতে হস্তান্তরের বিষয়ে রাজ্য সরকারের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা ছিল। রাজ্যের নাগরিক সমাজের একটি অংশও বরাবরই এই ধরনের হস্তান্তরের বিরোধিতা করে এসেছে, বিশেষ করে জনসংখ্যার ঘনত্বের কথা বিবেচনা করে। ২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তচুক্তির আওতায় ১০ হাজার একরের বেশি জমি বাংলাদেশকে দেওয়ার সময়ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তবে বর্তমানের এই ভূমি হস্তান্তরের বিষয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।