যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীর জিপিএ ১১ দশমিক ৯৯—এই রেকর্ড পুরোপুরি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় স্থানীয় সরকারি স্কুল পরিচালনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে। ঘটনাটি সামনে আসার পর কর্তৃপক্ষ জিপিএ গণনার নীতিতেই পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়।
ফ্লোরিডার লুটজে ঘটনাটি ঘটেছে। লুটজ হিলসবরো ও পাসকো কাউন্টির একটি এলাকা। টাম্পা শহর থেকে এটি প্রায় ১৫ মাইল দূরে।
লুটজের স্টেইনব্রেনার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী বৈভব ভাস্কর এ বছর জিপিএ ১১ দশমিক ৯৯ পেয়ে স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে স্কুল গ্রাজুয়েশনে কোনো শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ জিপিএ ছিল ১১ দশমিক ৮৪। ২০২২ সালে গেইদার হাইস্কুলের ডিলান মাজর্ড ওই রেকর্ড গড়েছিলেন।
হিলসবরো কাউন্টির নীতিমালার কারণেই ভাস্করের জিপিএ এতো বেশি হয়েছে বলে স্কুল সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। ওই নীতিতে অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট ও ডুয়াল এনরোলমেন্ট কোর্সে ‘এ’ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রচলিত ৪ দশমিক ০ জিপিএর অতিরিক্ত বোনাস পয়েন্ট দেওয়া হয়।
ডুয়াল এনরোলমেন্ট এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে স্কুল ও কলেজের কোর্স করতে পারেন—ভাস্কর সেই সুযোগ নিয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিকে অধ্যয়নকালে ভাস্কর ২০টি অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট কোর্স সম্পন্ন করেছেন। একই সঙ্গে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন কর্মসূচির মাধ্যমে ২৪টি ডুয়াল এনরোলমেন্ট কলেজ কোর্সও শেষ করেছেন। এর ফলে তিনি একটি অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন।
টাম্পা বে টাইমসকে ভাস্কর বলেন, ‘একবার আমি যখন ঠিক করলাম, আমাকে প্রথম হতেই হবে। আমি সামনে থাকা প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। আমি সবচেয়ে কঠিন সব কোর্স নিয়েছি। একপর্যায়ে আমি স্কুলের পুরো পাঠ্যক্রমই শেষ করে ফেলেছিলাম, এরপর ভেবেছি, এর বাইরে আমি আর কী করতে পারি।’
ভাস্কর অক্টোবরে অভিজাত ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
ভাস্করের এ অর্জনের পর হিলসবরো কাউন্টির স্কুল বোর্ড সম্প্রতি জিপিএ নীতিমালা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। জিপিএর ওপর একটি সর্বোচ্চ সীমা (ক্যাপ) নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী বছরের স্নাতক ব্যাচ থেকে কার্যকর হবে।
কর্তৃপক্ষের মতে, জিপিএ বাড়ানোর এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অনলাইন কোর্স করতে বাধ্য করছে, যা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। সে বিবেচনায় স্কুল বোর্ড আগামী বছর থেকে জিপিএর ওপর সর্বোচ্চ সীমা বা ‘ক্যাপ’ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বৈভবের এ অনন্য রেকর্ড আর কখনোই কেউ ভাঙতে পারবেন না।