মার্কিন সেনাবাহিনীর ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সদস্যদের জন্য প্রতি বছর বাধ্যতামূলকভাবে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি কমাতে এবং টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি শনাক্ত করে তা মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
গত বুধবার এক ভিডিও বার্তায় পিট হেগসেথ উল্লেখ করেন, পরীক্ষার মাধ্যমে যদি কারও টেস্টোস্টেরন লেভেল কম পাওয়া যায়, তবে তাকে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এর ফলে সেনাসদস্যরা তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এই প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, ‘বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্য।’
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সেনাসদস্যদের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষাটি করা হবে। তবে শরীরে হরমোনের ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিস্থাপন চিকিৎসা গ্রহণ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সেনাসদস্য নিজেই নিতে পারবেন। এছাড়া ৩০ বছরের কম বয়সী সদস্যরাও চাইলে এই পরীক্ষাটি করাতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ যখন টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই এই সিদ্ধান্ত এল। গত মাসে ওই বিভাগ জানিয়েছিল, বয়সের কারণে টেস্টোস্টেরন ঘাটতিতে ভোগা পুরুষদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন এবং যৌন আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা মনে করছেন, অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব, বিশেষ করে গৃহস্থালি পণ্যে থাকা এন্ডোক্রাইনের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এই হরমোন হ্রাসের বড় কারণ হতে পারে।