আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টিনা শিবিরে ছিল উচ্ছ্বাস আর আবেগের মিশেল। গান, উদ্যাপন আর উল্লাসের পাশাপাশি অনেকের চোখেই ছিল আনন্দাশ্রু।
তবে যাঁরা সবচেয়ে বেশি আবেগে ভেসেছেন, তাঁদের একজন ছিলেন জয়সূচক গোলের নায়ক লাওতারো মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুভেজা কণ্ঠে এই স্ট্রাইকার বলেন, এমন একটি গোলের স্বপ্ন তিনি অনেক আগে থেকে দেখে আসছিলেন।
.আবেগে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসা মার্তিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কী বলব, জানি না...অনুভূতিটা এতটাই গভীর! বাবা যখন প্রথম আমার জন্য এক জোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।’
.‘আমরা সত্যিই অনন্য’—বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে স্কালোনি .এরপর মায়ের কথা বলতে গিয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি এই স্ট্রাইকার। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তটা আমার মায়ের জন্য। আমি যেদিন রেসিং ক্লাবে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়েছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কখনো আমার বিছানা গোছানো বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেটার মূল্য একটি গোল বা একটি ফাইনালের চেয়েও অনেক বেশি।’
.সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জয় নিশ্চিত করা তৃতীয় গোলটি এবং গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করা মার্তিনেজ যোগ করেন, ‘আমার দুই সন্তান আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। ওরা আসার পর আমি অনেক শান্ত হয়েছি। এখন আমি এসব মুহূর্ত উপভোগ করি। আজ আমি একজন পরিণত মানুষ, জীবনকে উপভোগ করতে শিখেছি।’
ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারের জন্য এটি আর দশটি বিশ্বকাপের মতো নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতলেও একটি গোলও করতে পারেননি। ফলে শিরোপা জয়ের পরও কিছু আক্ষেপ রয়ে গিয়েছিল। আর তাই এবারের বিশ্বকাপকে তিনি দেখছিলেন নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ হিসেবে।
.বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে মার্তিনেজদের হাতে ব্যানার ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ .মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছিলাম। শপথ করে বলছি, আমি অ্যালেক্সিসকে (ম্যাক অ্যালিস্টার) বলেছিলাম আমি গোল করব। ফাকুকেও (মেদিনা) বলেছিলাম, আমি বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচটা জিতিয়ে দেব।’
কিছুটা আবেগ সামলে পরে ম্যাচটি নিয়েও বিশ্লেষণ করেন মার্তিনেজ, ‘এই দলটা আবারও দেখিয়ে দিল, তারা কী দিয়ে তৈরি। ওরা প্রায় ৬০ মিনিট আমাদের ওপর দারুণ চাপ ধরে রেখেছিল। এরপর আর সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। গোল করার পর তারা একটু নিচে নেমে রক্ষণে মনোযোগ দেয়। এতে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা গোল পেয়েছি, আর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’
নিউ জার্সিতে আগামী রোববার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।






