শারীরিক ব্যথার সমস্যায় অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন যে গরম সেঁক দেবেন নাকি ঠান্ডা। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ব্যথায় একই পদ্ধতি কার্যকর হয় না। ব্যথার ধরন, সময়সীমা এবং শরীরের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সেঁকের ধরন নির্বাচন করতে হয়।

সাম্প্রতিক ফুটবল বিশ্বকাপের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। নকআউট পর্বে ইংলিশ ফুটবলার ডেকলান রাইস আঘাত পাওয়ার পর ম্যাচ শেষ হতেই তাকে বাঁ ঊরুর পেছনে বড় আইস প্যাক ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা খেলোয়াড়দের জন্য গরম সেঁক বেশি উপযোগী হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বা তাজা আঘাত, মচকানো, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, খেলাধুলাজনিত চোট এবং ফোলা বা প্রদাহের ক্ষেত্রে প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা ঠান্ডা সেঁক দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বরফ বা আইস প্যাক কাপড়ে মুড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ব্যবহার করতে হবে। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে লাগানো উচিত নয়।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের কোমর বা ঘাড়ের ব্যথা, পেশি টান, ব্যায়ামের পর পেশির কাঠিন্য, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা এবং কাঁধ বা পিঠের শক্ত ভাবের ক্ষেত্রে গরম সেঁক কার্যকর। খেলোয়াড়দের পেশি শক্ত হয়ে গেলে বা দীর্ঘদিনের ব্যথায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য গরম সেঁক ব্যবহার করা হয়। হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাকের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সেঁক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কতা হিসেবে মনে রাখতে হবে, নতুন আঘাত ও ফোলায় ঠান্ডা সেঁক এবং পুরোনো ব্যথা ও পেশির শক্ত ভাবে গরম সেঁক দিতে হয়। তবে ক্ষতস্থানে সরাসরি সেঁক দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা বা অনুভূতি কম থাকলে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া তীব্র ব্যথা, জ্বর, অতিরিক্ত ফোলা বা ব্যথা না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

— লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।