বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধির গতিতে এসেছে মন্দা। ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা এবং আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রভাবে এপ্রিল-জুন সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৫ শতাংশ। চলতি বছরের জন্য বেইজিং ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই ফলাফল সেই লক্ষ্যমাত্রার নিচে অবস্থান করছে।

গত মার্চ মাসে চীন সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, যা ১৯৯১ সালের পর তাদের সর্বনিম্ন লক্ষ্যমাত্রা। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝে অর্থনীতি পরিচালনায় নীতিনির্ধারকদের নমনীয়তা দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের জিডিপি তথ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের পর এটিই প্রথম পূর্ণ প্রান্তিকের অর্থনৈতিক হিসাব। একই সঙ্গে ২০২২ সালের শেষ দিকে কোভিড বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর প্রান্তিক হিসেবে এটিই চীনের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন বাড়লেও ভোক্তাদের চাহিদা সেই হারে বাড়ছে না, যার ফলে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

সরকারি অন্য একটি প্রতিবেদনে আবাসন খাতের সংকট অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে। জুনে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও আগের মাসের তুলনায় পতনের হার কিছুটা কমে ০ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ভোক্তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে; মে মাসে খুচরা বিক্রি ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও জুন মাসে তা ১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, রপ্তানি খাতের চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক। মঙ্গলবার প্রকাশিত শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুনে চীনের রপ্তানি ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টারের জন্য সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক চাহিদা প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানিতে গতি এনেছে।

এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ির আন্তর্জাতিক চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তার ফলে অনেক দেশই এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। এই বাস্তবতায় জুনে প্রথমবারের মতো মাসিক ভিত্তিতে চীনের গাড়ি রপ্তানি ১০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী রপ্তানি খাতের কল্যাণে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ অনেকটা সামলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।