যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলাম লেখক ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেছেন। আদালতের আদেশের তিন বছর পর অবশেষে এই অর্থ প্রদান করা হলো। ই. জিন ক্যারলের আইনজীবীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত মঙ্গলবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান বলেন, ‘আজ আমরা এটা জানাতে পেরে আনন্দ বোধ করছি যে জুরির রায় অনুযায়ী তিনি (ক্যারল) নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন।’

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যারল মোট ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছেন। এর মধ্যে জুরির নির্ধারিত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আপিল চলাকালীন সময়ের সুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন যে, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেন। এছাড়া ২০২২ সালে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' এই অভিযোগ অস্বীকার করে পোস্ট দিলে তা মানহানির পর্যায়ে পড়ে বলে দাবি করেন ক্যারল। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি সর্বসম্মতভাবে ক্যারলের পক্ষে রায় দেয়।

ট্রাম্প শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তাঁর আইনজীবী দল এই মামলাটিকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা এই মামলার পেছনে অর্থায়ন করেছে। এছাড়া দেওয়ানি মামলার বিচারক লুইস ক্যাপলান জুরিদের প্রভাবিত করতে ভুল প্রমাণ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প।

তবে গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত জুরির রায় বহাল রেখে জানায়, বিচারক ক্যাপলান এমন কোনো আইনি ভুল করেননি যার কারণে নতুন করে বিচারের প্রয়োজন হয়। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও মামলাটি পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের পথ প্রশস্ত হয়। এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে ক্যারল তাঁর সাবস্ট্যাক ব্লগে লিখেছিলেন, ‘আমরা জিতেছি!’ এবং আরও লিখেছিলেন, ‘এই বিজয় বিশ্বের প্রতিটি নারীর জন্য।’

এর আগে ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করতে চেয়েছিলেন যাতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সুযোগ পান। তবে গত সপ্তাহে বিচারক তাঁকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের আইনজীবী দলের একজন প্রতিনিধি এই অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানির ঘটনায় জুরি ক্যারলকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল করলেও গত বছর ফেডারেল বিচারকদের একটি বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন।