কুষ্টিয়ার ‘স্নেহময়ী’ নামক পারিবারিক বাড়িতে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হলেন পরিবারের সদস্যরা। ওই পরিবারের ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে বোন তাসনিয়া সারওয়াত হুদা, যাকে সবাই ‘তাসনিয়া মিস’ বলে ডাকে, এক রহস্যময় অভিজ্ঞতার পর হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান। পেশায় শিক্ষক তাসনিয়া মিসের আগে থেকেই অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে যখন পরিবারের সদস্যরা তাদের কুষ্টিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বাড়ির দাবি অনুযায়ী, সেখানে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ভূতের অস্তিত্ব রয়েছে, যারা মাঝেমধ্যে দেখা দেয়। এক সন্ধ্যায় বাড়ির মেজ ভাই যখন বই খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, তখন তাকে রাতের খাবারের জন্য ডাকতে আসেন তাসনিয়া মিস। ঘুম থেকে জাগিয়ে তিনি বলেন, ‘বই খোলা রেখেছ কেন, মেজ ভাই? জানো না, বই খোলা রাখলে ভূতে বই পড়ে ফেলে!’
ঠিক এই কথাটি বলার পরপরই তাসনিয়া মিস কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অজ্ঞান হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন, “বেঁচে থাকতেই কোনো দিন বই পড়লাম না আর মরে ভূত হয়ে বই পড়ব! পাগলে কামড়েছে নাকি!”
হঠাৎ এই ঘটনায় বাড়িতে চরম উত্তেজনা ও কান্নার পরিবেশ তৈরি হয়। দ্রুত তাকে বিছানায় শোয়ানো হয় এবং চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর তাসনিয়া মিস জানান, তিনি যখন ভূতের কথা বলছিলেন, তখনই পেছন থেকে কেউ তার কাঁধ খামচে ধরে। এরপর তার কানের কাছে এসে কেউ একজন বলে, ‘বানিয়ে বানিয়ে আমাদের নামে এসব কেন বলিস! বেঁচে থাকতেই কোনো দিন বই পড়লাম না আর মরে ভূত হয়ে বই পড়ব! পাগলে কামড়েছে নাকি!’ এই কথা শোনার পরপরই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।






