মুক্তকণ্ঠের 'অন্য আলো' পাতায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এক সংকলন, যেখানে কবিতার ভাষায় ফুটে উঠেছে প্রেম, বিরহ এবং সমকালীন অস্থিরতার কথা। এই সংকলনের বিভিন্ন খণ্ডে মানবজীবনের জটিল অনুভূতিগুলো স্থান পেয়েছে।
সংকলনের প্রথম অংশে 'দ্বিচারিণীও হতে পারো' শিরোনামের কবিতায় এক তীব্র আকুলতা ও দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে। সেখানে কবি লিখেছেন, "তোমাকে গন্তব্য ভেবে সব হাতছানি পায়ে ঠেলে বিনাশী সুখের স্রোতে ভেসে দিতে পারি না তো ধরা হরিণী নও সে তুমি, নও শুল নিয়তির ফুল ভালোবেসে রোজ তাই গুনে যাই ভুলের মাশুল দ্বিচারিণী হতে পারো, হতে পারো স্বর্গের কুসুম ম্রিয়মান রাত পারে, পারে জানি কামাতুর ডাক তুমিও পারবে তবে অথবা এ তোমার স্বভাব বুকের খাঁজের মাঝে চোখ যার দিয়ে যায় সাড়া হতে পারো তার অথবা এ শুধু শরীর পাহারা স্তন সে পাওয়া যাবে, কেনা যাবে সোনার শরীর ভোগের নও তো তুমি, দিতে চাই আপন অধীর মানুষের রক্তস্রোতে ঘুণ পোকা করে গুন গুন তোমাকে হারাব ভেবে রোজ আমি হয়ে যাই খুন।"
পরবর্তী অংশে 'মাটির পুতুল' কবিতায় যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিকতার সংকট ফুটে উঠেছে। কবির ভাষায়, "সমুদ্র পেরোলে সূর্য ছোট হয়ে আসে ইরানি ‘শাহেদ’ থামে, ‘টমাহক’ হাসে ধোঁয়া মেখে চরকার কাঁটা কাটে লাল অবসরে কে সাজাবে কাচের দেয়াল প্রতিটি বারুদ জুড়ে মৃত্যু নাম ফুল মানুষই নিচ্ছে কেড়ে মানুষের কূল।"
আবেগের এক ভিন্ন মাত্রা দেখা যায় 'বহুরূপী নই জেনে ম্যাসোকিস্ট বানিয়ে ছাড়লে' শিরোনামের কবিতায়। সেখানে কষ্টের এক অদ্ভুত ভালোলাগার কথা বলা হয়েছে: "কষ্ট পেতে ভালোবাসি বলে দিয়ে গেলে কষ্টের বীণা রাজনীতি কে বুঝেছে আর এখানে–সেখানে যেমন যেভাবে যত দিন গেলে ভগবানের সংসারে পরাজিতের বেদনা কি মেপে দেখা যেত, দেখা যেত সম্ভাবনার ব্যয় তত দিনে ম্যারাথনে নেমে পড়া সাপিনীর রূপে শেকল খুলে ডুবি ডুবি মাছেদের দলে মিলেঝিলে যাবে যারা; তাদের মতো হতে পারব না জেনে দিয়ে গেলে কষ্টের বীণা কষ্ট পেতে ভালোবাসে যারা তাদের থাকে রাত্রির দেনা…"
'অশনের দিন' কবিতায় যমুনার তীরের বিকেল আর আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা উঠে এসেছে। কবি লিখেছেন, "যমুনার কালো জল আলো হয়ে ওঠে শেষা মাঘের বিকেলে জাহাজের পাটাতন ভেঙে ছুটে আসে জাহ্নবীর গীতিধারা বউ কথা কও হয়ে ফেরে সোনালির সাহসিকা সবটুকু জানা হয়ে গেলে কলহাস্য করে তরুণীর ঠোঁট ঘোর ভেঙে জেঁকে বসে মাদুরের বিপণিবিতান যাচাই করেই হও বক্ষবন্ধনীর ফিতা চোখের কাঁকন ভালো তো বাসে না তারা, হাতে রাখে সব অপশন।"
সবশেষে 'আনরিকুইটেড লাভ' কবিতায় এক অপূর্ণ প্রেমের করুণ আর্তনাদ শোনা যায়। সেখানে কবি ব্যক্ত করেছেন, "হাতটা তোমার ধরব বলে তারিখ ভুলে অহর্নিশি ব্যথার মতো ব্যাধের মতো হাজারখানি রাত জেগেছি কফির রঙে সকালবেলা বাবা যখন মন্ত্র পড়েন, ঘণ্টা নাড়েন প্রদীপ তুলে পড়ার ঘরে একলা বসে প্রার্থনাতে নাম জপেছি বাড়ির কাছে পুসকুনিটা বড্ড বেশি অগোছালো রক্ত জবা ফুটছে গাছে ঝড়ের রাতে যাচ্ছে উড়ে প্রবল পাখি সুরের মতো তখন আমি তোমার শোকে মৃত্যুঋণে মুহুর্মুহু মন বাড়িয়ে সাপ হয়ে যায় হাতটা তোমার ধরব বলে মানত করে ষষ্ঠীতলায় মায়ের মতো গোপন করে অশ্রু ফেলি কী হবে আর, কী হারাব, নাই–বা পেলাম না দিলে মন নাই–বা ছুঁলাম ঠোঁটের আগুন বুকের বিরাগ চোখের ফাগুন তোমার কাছেই সব সঁপেছি অস্থি থেকে মন সুখের দিনে নাই–বা নিলে সাথে, খবর দিয়ো মন খারাপের রাতে।"






