কাগজে-কলমে ফ্রান্সের দল হয়তো অধিক তারকাখচিত। বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে অ্যালেক্স বায়েনার চেয়ে উসমান দেম্বেলে, দানি ওলমোর চেয়ে মাইকেল ওলিসে কিংবা মিকেল ওইয়ারসাবালের চেয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্যক্তিগত প্রতিভার চেয়ে দলীয় ঐক্যের দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে মাঠ কাঁপালো স্পেন। নিখুঁত সমন্বয়, ছন্দ আর আধিপত্যের জোরে পরাক্রমশালী ফ্রান্সকে ২–০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচটিতে দেখা গেছে, ফ্রান্স ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ভরসা করলেও প্রতিটি পজিশনেই স্পেনের খেলোয়াড়রা ছিলেন এক ধাপ এগিয়ে। স্প্যানিশ ফুটবলারদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সঠিক অবস্থান ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করে দেয়। যেখানে ফ্রান্সকে মনে হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত সামর্থ্যের যোগফলের চেয়েও দুর্বল একটি দল, সেখানে স্পেন হয়ে উঠেছিল তাদের খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের চেয়েও অনেক বড় একটি শক্তি।

স্পেনের এই জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন পেদ্রো পোরো। রক্ষণভাগের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে সামলানোর পাশাপাশি দ্বিতীয়ার্ধে দলের জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী এই টটেনহাম ডিফেন্ডার এই বিশ্বকাপের আগে স্পেনের হয়ে কোনো গোল করতে পারেননি, তবে এই টুর্নামেন্টেই তিনি দুটি গোল করেছেন। তাঁর এই গোলটি স্পেনকে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।

ম্যাচসেরা পোরো তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। দলের জন্য ভীষণ খুশি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা দারুণ খেলেছি। ফাইনালে ওঠার জন্য যা যা করা দরকার, আজ সবই করেছি।’

পুরো দলের প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম, খুবই কঠিন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে নামছি। কিন্তু সবকিছু আমরা পরিকল্পনামতো করতে পেরেছি। এটা কোনো একজনের কৃতিত্ব নয়, পুরো দলের। এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’

ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকানোর কৌশল প্রসঙ্গে পোরো জানান, ‘আমরা জানতাম, বলের দখল ধরে রাখতে পারলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল পাল্টা আক্রমণ। সেটি ঠেকানোই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।’

ম্যাচের মাঝপথে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কখন আমাকে তুলে নেওয়া হয়েছে, সেটা ঠিক মনে নেই। তবে তখন আমার আর কিছু দেওয়ার মতো শক্তি ছিল না। কিন্তু আগেই বলেছি, এই জয় আমাদের সবার। আমরা ২৬ জন মিলে এই সাফল্য অর্জন করেছি। এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এই মুহূর্তে আমি পুরোপুরি ক্লান্ত। তবে বিশ্রাম নিয়ে ঘুরে দাঁড়াব, তারপর ফাইনালে আবারও সব উজাড় করে দেব।’