মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইউরো জয়ের ইতিহাস গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। তবে বর্তমান বিশ্বকাপে তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ কি অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে? স্পেন এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফর্ম করলেও তাদের আক্রমণভাগের পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন জাগছে, ইয়ামাল কি এখনো তাঁর সেরা ফর্মে ফিরতে পারেননি?

সদ্য ১৯ বছর পূর্ণ করা এক তরুণের জন্য এই বয়সে প্রাপ্তি অবিশ্বাস্য। সাধারণ ১৯ বছর বয়সীদের যখন পড়াশোনা বা বয়সভিত্তিক দলের খেলায় ব্যস্ত থাকার কথা, ইয়ামাল ততদিনে অর্জন করেছেন এমন সব সাফল্য যা অনেক ফুটবলার পুরো ক্যারিয়ারেও পান না। তবে এই অসামান্য সাফল্যই হয়তো তাঁর কাঁধে প্রত্যাশার পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে। গতকালই তাঁর জন্মদিন ছিল, যা সমবয়সীদের সঙ্গে উদযাপনের কথা থাকলেও তাঁর চিন্তায় এখন শুধুই বিশ্বকাপ।

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের লড়াইয়ের আগে ইয়ামালের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। স্পেন হয়তো এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম ব্যক্তিনির্ভর দল, কিন্তু এই দলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ইয়ামাল। দেশের হয়ে ইউরো জয় এবং বার্সেলোনার হয়ে তিনবার লা লিগা জেতার পর এখন তাঁর লক্ষ্য বিশ্বকাপ। তবে এই মঞ্চে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিপক্ষে করা একমাত্র গোলটিই তাঁর অবদান।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টিনএজার হয়েই মহিরুহ হওয়ার উদাহরণ আছে। ১৯৫৮ সালে দেখা গিয়েছিল ১৭ বছর বয়সী পেলেকে, আর ২০১৮ বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন ১৯ বছর ২০৭ দিন বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ামালের ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা থাকলেও চোট তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিলে বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় পাওয়া চোটের পর এক পর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন হয়তো শেষ হয়ে গেছে। এই কারণে গ্রুপ পর্বে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করেছেন।

বয়স এবং মানসিক পরিপক্কতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সতীর্থ রদ্রি মনে করেন, “আমার মনে হয় ইয়ামালকে অস্থিরতা একটু কমাতে হবে। অনেক সময় সে দেখাতে চায় দলের জন্য সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ও ইউরোর সময়েই যে রকম পরিণত হয়ে গিয়েছিল, দুই বছর পর তাঁর তো আরও বেশি মুগ্ধতা ছড়ানোর কথা।” অন্যদিকে কোচ দে লা ফুয়েন্তে আশাবাদী হয়ে বলেন, “আমি জানি, বিশ্বকাপ এখনো আসল ইয়ামালকে দেখিনি। আমি নিশ্চিত সামনেই সেটা আমরা দেখতে পাব।”

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল না করেও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ইয়ামাল। সেই ম্যাচের পর নিজের গোল করার আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “অবশ্যই আমি গোল করতে চাই। কিন্তু ব্যাপারটা এমন নয় যে মাঠে নামলে আমি শুধু গোল করার কথাই ভাবি। আমার কাজ হচ্ছে দলকে সাহায্য করা। গোল না করেও সেটা করতে পারি। বিশ্বকাপ জিততে পারলে কেউ মনে রাখবে না আমি কত গোল করেছি।”

২০২৪ ইউরোতে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের একমাত্র গোলটি করেছিলেন ইয়ামাল। এখন দেখার বিষয়, আজকের সেমিফাইনালে সেই স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না তিনি।