জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় নারীদের উপস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে অভ্যুত্থানের পর তাঁদের অনেকেরই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দৃশ্যমান অবস্থান পাওয়া যায়নি—এমনই অভিমত উঠে এসেছে রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত ‘জুলাই নারী সমাবেশ ২০২৬’–এ। আয়োজকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় নারীশক্তি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) সমাবেশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীদের অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও হতাশার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আন্দোলনে ভূমিকা ও আত্মত্যাগ থাকলেও তা পরবর্তী সময়ে সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রতি ইঙ্গিত করে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)। ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলের পাশাপাশি ছাত্রীদের পাঁচটি হলের ফটকের তালা ভেঙে বের হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের ওপর আক্রমণ করে ছাত্রলীগ—এই ঘটনাগুলো আন্দোলনের গতি বদলে দেয়।
সেই ১৪ জুলাইয়ের দুই বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে গতকাল নারীশক্তির সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানের আলোচিত নারীদের অনেকে নিজেদের অপ্রাপ্তি ও হতাশা তুলে ধরেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এনসিপির সঙ্গে জুলাইয়ের নারীরা আর নেই, চলে গিয়েছে—এভাবে বিভিন্ন সময়ে ফ্রেমিং করার প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বারবার একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখসারিতে ছিলেন,
আজকে তাঁরা নেই কেন? আমি মনে করি, এই প্রশ্নটা যৌক্তিক। এই প্রশ্ন নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ, ভূমিকা ও আত্মত্যাগ থাকলেও গত দুই বছরে তা নারীদের মধ্যে, সব রাজনৈতিক দল বা সামগ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়নি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা আছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের পরও রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন করা যায়নি বলে আক্ষেপ করেন ফরিদা আখতার।
নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া বক্তব্য দেন। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা ঝুমা এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।






