ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে যুক্তরাষ্ট্রের সিএনএনসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ।
গত শনিবার রামাল্লার উত্তরে সিনজিল গ্রামের কাছে সাংবাদিকদের জড়ো হওয়ার পর এই হামলার ঘটনা ঘটে। এক বছর আগে ওই স্থানে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সাইফ মুসাল্লাতকে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল। সেই হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে গিয়েছিলেন সাংবাদিকেরা।
সিএনএন-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই একদল বসতি স্থাপনকারী সেখানে উপস্থিত হয়। সাংবাদিকেরা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে চারজন বসতি স্থাপনকারী একটি গাড়ি দিয়ে রাস্তা আটকে দেন। হামলাকারীদের হাতে ছিল পাথর, কাঠ ও ধাতব লাঠি। একজনের হাতে ছিল ছুরি, যা দিয়ে তিনি সিএনএনের গাড়ির চাকা ফুটো করার চেষ্টা করেন।
এরপর হামলাকারীরা সিএনএনের গাড়ির পেছনে থাকা অন্য একটি গাড়িতে উঠে পড়েন, যেখানে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ছিলেন। তারা গাড়িটির সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন। একই সময়ে আরেকটি দল বিকল্প পথ আটকে দিয়ে সাংবাদিকদের সিনজিল শহরের দিকে ধাওয়া করে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের গাড়ি থেকে কাঠের লাঠি ও একটি ছুরি জব্দ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পুলিশ বলেছে, “সম্পদের ক্ষতি বা সহিংসতার যেকোনো ঘটনা তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। বিশেষ করে যখন দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীরা এর শিকার হন।”
২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাইফ মুসাল্লাত নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ঘটনাটিকে “অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে মুসাল্লাতের বাবা সিএনএনকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের এক বছর পরও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গত শনিবারের এই হামলার কয়েক দিন আগে পশ্চিম তীরের হেবরনের দক্ষিণে সফররত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্নাকেও বসতি স্থাপনকারীরা আটকে রেখেছিলেন। তিন দিনের ওই সফরে তিনি তুরমুস আইয়া গ্রাম পরিদর্শন করেন, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান বসবাস করেন এবং গ্রামটি দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, তাঁকে আটকে রাখা বসতি স্থাপনকারীদের চোখে তিনি ঔদ্ধত্য দেখেছেন। তাঁদের আচরণে মার্কিন নাগরিক বা একজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের প্রতি কোনো সম্মান ছিল না।
অন্যদিকে, সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়টি “অতিরঞ্জিত” করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, এসব ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন “উচ্ছৃঙ্খল তরুণ” জড়িত। পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও আদালত তাঁদের প্রতি তুলনামূলকভাবে নমনীয়।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর এই দাবি সত্ত্বেও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে দ্রুত নতুন বসতি সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে।