ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা চার দল জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ড—চার দলই আবার সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ফলে সবার সামনে থাকবে ট্রফি আবারও হাতে তোলার সুযোগ।
এবারের সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে ওঠা দলগুলো কারা—তার ওপর নির্ভর করছে ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য কোন দ্বৈরথ অপেক্ষা করছে। কাতার বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি, ইউরো ফাইনালের স্মৃতি, কিংবা দীর্ঘদিনের ইতিহাস–ঘেঁষা ম্যাচ—সম্ভাবনা আছে একাধিক পথে।
ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা
ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে কাতার বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। শেষ এমনটা ঘটেছিল ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে—পরপর দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। প্রথমবার জিতেছিল আর্জেন্টিনা, পরেরবার জার্মানি। এবার জার্মানির জায়গায় ফ্রান্স। ফর্মের দিক থেকে দুই দলই রয়েছে শীর্ষে, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা দুই দল তাদের।
২০২২ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ প্রায় একাই বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হার মানতে হয়েছিল তাঁদের। এর আগেও ২০১৮ বিশ্বকাপে তরুণ এমবাপ্পেকে সামলাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোয় মেসিরা ৪-৩ গোলে হেরেছিলেন ফ্রান্সের কাছে। এবার টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স মুখোমুখি হলে সেটি মনে রাখার মতো ম্যাচ হবে বলেই ইঙ্গিত।
স্পেন বনাম ইংল্যান্ড
স্পেন-ইংল্যান্ড ফাইনাল হলে সেটা হবে ২০২৪ ইউরো ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। বার্লিনে সেই ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার উল্লাসে মেতেছিল স্পেন। এবার হ্যারি কেইনদের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।
এর আগে বিশ্বকাপে মাত্র দুবার মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড-স্পেন। প্রথমবার ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে, স্পেন জিতেছিল ১-০ গোলে। দ্বিতীয়বার ১৯৮২ সালে, ম্যাচ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য সমতায়। ফাইনালে উঠলে ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি হবে স্পেন–ইংল্যান্ড। একদিকে কেইন-বেলিংহামের দুর্দান্ত ফর্ম, অন্যদিকে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ—ফাইনালে লড়াইটা হবে ঘনিষ্ঠভাবে।
স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা
স্পেন-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথের পেছনে আছে বহু পুরোনো সম্পর্ক। ষোড়শ শতকের শেষ দিকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্প্যানিশরা দখল করেছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় আড়াই শ বছর স্পেনের অধীনে থাকার পর স্বাধীনতা অর্জন করে আর্জেন্টিনা। তবে স্প্যানিশদের রেশ রয়েই যায়। ফলে এত বছর পর এসেও আটলান্টিক মহাসাগরের দুই প্রান্তের দেশ কথা বলে এক ভাষায়। স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল হলে সেটি হয়ে উঠবে অল-স্প্যানিশ ফাইনাল।
তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ডিসেম্বরেই। কোপা আমেরিকা আর ইউরোজয়ী দল মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ফিনালিসিমার ফাইনালে। কিন্তু ভেন্যু ঠিক করতে না পারায় মাঠে গড়ায়নি ফিনালিসিমা। সেই না হওয়া ফাইনাল ফিরতে পারে বিশ্বকাপে। এক প্রান্তে থাকবেন ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে শুরুর চিত্রনাট্য লেখা লামিনে ইয়ামাল। শেষ না শুরু—ফাইনালে কোন গল্প লেখা হবে, তা জানা যাবে দুই দলই সেমির বাধা পাড়ি দিতে পারলে।
ফ্রান্স বনাম ইংল্যান্ড
ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের লড়াইটা যতটা না মাঠের, তার থেকেও বেশি ইতিহাসের। মধ্যযুগে ইংলিশ চ্যানেলের দুই প্রান্তে থাকা ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড যুদ্ধ করেছে শত বছরের বেশি সময় ধরে। যুদ্ধের ব্যাপ্তি এতটাই বিশাল ছিল যে তার নামই দেওয়া হয়েছে ‘হানড্রেড ইয়ার্স ওয়ার’। সেই যুদ্ধের রেশ এখন আর তেমন একটা নেই। কিন্তু ফাইনালে মুখোমুখি হলে পুরোনো শত্রুতা নতুন করে টানতে কতক্ষণ—সেটাই দেখার।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড জিতেছিল ২-০ গোলে, ১৯৮২ সালে ৩-১ গোলে—দুটিই ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে আবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেখানে ফ্রান্স শেষ হাসি হেসেছিল ২-১ গোলে জিতে। এবার ফাইনালে শুধু দুই দল নয়, মুখোমুখি হবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং জুড বেলিংহামও। গুঞ্জন আছে, রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকার মধ্যকার সম্পর্কটা বেশ কয়েক মাস ধরেই শীতল। সেই শীতল সম্পর্কটা তাঁতিয়ে দেওয়া সুযোগ করে দেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল—এমন প্রত্যাশা থাকছে।
ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল ম্যাচের রেফারি কে এই বারটন






