সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় এই উৎসবটি ৯ দিনব্যাপী পালিত হবে।
সোমবার সকালে স্বামীবাগ মন্দিরে আয়োজিত এক সাংবাদিক মতবিনিময় সভায় এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী জানান, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গলের কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর বেলা তিনটায় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুরু হবে এবং সন্ধ্যা সাতটার দিকে তা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
রথযাত্রার রুট সম্পর্কে নিতাই স্বামী জানান, রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে যাত্রা শুরু করে রথটি জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে ২৫ জুলাই বিকেলে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একই পথে উল্টো রথের শোভাযাত্রা স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবে।
ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদকের মতে, ভারতের ওডিশার পুরী রথযাত্রার পর ইসকনের আয়োজনে ঢাকার এই রথযাত্রাটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। তিনি আরও জানান, ঢাকার পাশাপাশি দেশজুড়ে ইসকনের ব্যবস্থাপনায় এ বছর মোট ১২৮টি রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে নিতাই স্বামী বলেন, সরকার, প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে রথযাত্রা নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তারা সর্ব্বোচ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এ ছাড়া ইসকনের ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই।
সোমবারের ওই সভায় ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস ব্রহ্মচারী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস, হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস ও শুভ নিতাই দাস উপস্থিত ছিলেন।






