স্পেনের কাছে বেলজিয়ামের হারের পর নিশ্চিত হয়েছে, সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া মন্তব্য করেছেন, "এই ম্যাচে যে জিতবে, বিশ্বকাপ যাবে তার কাছেই।" তাই এই ম্যাচটিকে ফাইনালের আগে ফাইনাল বলা হচ্ছে। কিন্তু মাঠের পরিসংখ্যানে কোন দল এগিয়ে?
এই বিশ্বকাপে পাসের ক্ষেত্রে স্পেন অন্যতম শীর্ষ দল। সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে শুধু আর্জেন্টিনাই স্পেনের চেয়ে গড়ে বেশি পাস খেলেছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় ম্যাচে স্পেন মোট ৪ হাজার ৭৫টি পাস দিয়েছে, যা প্রতি ম্যাচে গড়ে ৬৭৯.২টি পাস। এই সংখ্যা ফ্রান্সের গড় ৫৬১.৫ পাসের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি। স্পেনের পাস সফলতার হার ৯১ শতাংশ, আর ফ্রান্সের ৯০ শতাংশ।
ফ্রান্সের একটি অন্য জায়গায় এগিয়ে রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই দলই ১১০টি করে শট নিয়েছে, তবে ফ্রান্সের ১১০ শটের মধ্যে ৪৭টি লক্ষ্যে ছিল, যার ১৬টি গোলে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের ৪০টি শট লক্ষ্যে ছিল এবং তারা গোল করেছে ১১টি।
আক্রমণের কৌশলেও দুই দলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্পেন প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৪.৩টি ক্রস করে, যেখানে ফ্রান্স প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৬.৫টি ক্রস করে।
শৃঙ্খলার দিক থেকেও ফ্রান্স এগিয়ে। দিদিয়ের দেশমের দল এখন পর্যন্ত ৫৯টি ফাউল করেছে, যা প্রতি ম্যাচে প্রায় ১০টি। অন্যদিকে, স্পেন করেছে ৬৮টি ফাউল, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ১১.৩টি।
কার্ডের হিসাবেও স্পেন কিছুটা পিছিয়ে। তারা পেয়েছে ৫টি হলুদ কার্ড, যেখানে ফ্রান্সের হলুদ কার্ডের সংখ্যা ৪টি। তবে সেমিফাইনালের আগে সব হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়ায় কোনো খেলোয়াড়ই নিষেধাজ্ঞার কারণে ম্যাচটি মিস করবেন না।
দুই বছর আগে ইউরোর সেমিফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার স্পেন ২-১ গোলে জয়লাভ করে এবং পরে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল।
কোর্তোয়া বলেছেন, "চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স বা স্পেন," আর রোমেরো মন্তব্য করেছেন, "কান দিই না।"






