বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচের আগে সাবেক ইংলিশ তারকারা আলোচনায় জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। চেলসি ও লিভারপুলে খেলা সাবেক উইঙ্গার জো কোলের মতে, লিওনেল মেসিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে যাতে তিনি স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলতে না পারেন।

নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার এবং মিকা রিচার্ডসের সঙ্গে আড্ডায় বসেছিলেন জো কোল। সেখানে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে কথা উঠলে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা সাবেক এই চেলসি ও লিভারপুল তারকা বলেন, ‘আমাদের মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা ওকে ঘুম পাড়িয়ে দেব। হ্যাঁ, ১০০ ভাগ নিশ্চিত!’

স্টুডিওতে থাকা অন্যরা তাঁকে থামানোর চেষ্টায় রসিকতা করে বলেন, ‘এমন কথা এখনই বোলো না!’ তবে কোল নিজের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট করেন, ‘আমি এখনই বলছি, আমরা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে যাচ্ছি।’

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সতর্কতার সুরও শোনা যায়। সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডসের মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ভীষণ ধূর্ত এবং তাঁদের জেতার মানসিকতা প্রবল। তাঁর বক্তব্য, ম্যাচ জিততে ইংল্যান্ডকে ধারণার চেয়েও বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। তবে টমাস টুখেলের বর্তমান দলের ওপর ভরসা রেখে রিচার্ডস যোগ করেন, ‘আর্জেন্টিনার শক্তির বিপরীতে আমাদের গতি অনেক বেশি। আমরা ওদের হারাতে যাচ্ছি, আমার মন তা–ই বলছে।’

আরেক সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলও সেমিফাইনালের আলোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেননি। তবে তাঁর মনোযোগ মেসির দিকে নয়—আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে কেন্দ্র করেই তিনি কথা বলেন। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ জুটির প্রসঙ্গে নেভিল বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, রোমেরো আর লিসান্দ্রো মিলে প্রতি ম্যাচে একটা করে গোল উপহার দেবে। আবার পরক্ষণেই দেখা যায় ওরা গোল করছে, প্রতিটা হেডার জিতছে এবং মাঠের সব জায়গায় হাজির হচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিলে ওদের কী যে হয়!’

এই জুটিকে নিয়ে নেভিল আরও বলেন, ‘আমি তাদের বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে বাজে সেন্টারব্যাক জুটি বলি। কারণ, একমুহূর্তে তারা অবিশ্বাস্য রকমের দুর্দান্ত, আর পরের মুহূর্তেই একদম সাধারণ থেকে হাস্যকর!’

আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সাবেক ইংলিশ তারকাদের এসব মন্তব্য সেমিফাইনালের উত্তাপ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।