এবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ শিক্ষার্থী। তবে, এবারের বৃত্তির জন্য নির্ধারিত ৮২ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে সব কটি কোটা পূরণ হয়নি। আজ রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) বৃত্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বৃত্তির অর্থ প্রদান করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং বৃত্তি পাওয়ার পর তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই অর্থ পাবে। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়।
বর্তমানে, মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবেন। সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, এবারের বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এই পরিমাণ অর্থ পাবে।
তবে, ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই অর্থ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, এ বছরের শেষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৃত্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে অর্থ পাবেন।
এ বিষয়ে আজ বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, "বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আগেই ৯ জেলার প্রকাশের ঘটনায় এক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। মেধাবৃত্তি উপজেলা বা থানা অনুযায়ী এবং সাধারণ বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুজন বালক ও দুজন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে) দেওয়া হয়।
একসময় নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা হতো। পরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়, যেখানে সব শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পেত। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারির সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রাথমিকে হঠাৎ বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ফলাফলে ভুল ও অসংগতি দেখা দেয়। পরে তা আবারও চালুর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের শেষে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে প্রাথমিকের বৃত্তি আটকে যায়। গত এপ্রিলে জটিলতা কাটিয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং আজ তার ফল প্রকাশ করা হলো।