রাজধানীতে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করে সংসার চালান সোরহাব সরদার। প্রতিদিন সব খরচ বাদে তার গড়ে আয় এক হাজার টাকা বা তার চেয়ে একটু বেশি হলেও আজ বৃষ্টির কারণে সে আয়ের গতি থেমে গেছে।

রোববার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় টানা বৃষ্টি ও পানি জমে। বৃষ্টির পানি ঢুকে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়—ফলে রাইড চলতেও পারছেন না সোরহাব সরদার। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কাজীপাড়ায় তাঁর সঙ্গে কথা হলে দেখা যায়, বিকল হওয়া মোটরসাইকেলটি তিনি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর গন্তব্য মগবাজার।

সোরহাব সরদার জানান, শাহবাগ থেকে সকাল ৮টার দিকে যাত্রী নিয়ে তিনি মিরপুর ১০ নম্বরে গিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ওই সময় শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ নম্বরের কাছাকাছি এই অংশের সড়কে হাঁটুসমান পানি ছিল।

ইঞ্জিনে কীভাবে পানি ঢুকেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিরপুর ১ নম্বর থেকে যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে কাজীপাড়ায় পাশ দিয়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি বেশি গতিতে চলে যায়। এতে পানির স্রোত মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ঢুকে পড়ে এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরে কাজীপাড়া থেকে তিনি মোটরসাইকেল টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

নিজের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে সোরহাব সরদার বলেন, ‘আজকে আর কোনো ট্রিপ পামু না। আগে গাড়ি ঠিক করতে অইব। তারপর কী করুম কইতে পারি না। কতক্ষণ সময় লাগে বলতে পারি না।’

সোরহাব সরদারের বাড়ি শরীয়তপুরে। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে তিনি হাতিরঝিল এলাকায় থাকেন। ঢাকার রাস্তায় এত পানি তিনি এর আগে দেখেননি বলেও জানান।

শুধু সোরহাব সরদার নন, অতি বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে ভোগান্তিতে পড়েছেন আরও অনেকে। কাজীপাড়া নিজ বাসা থেকে সকাল ৯টায় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি উত্তরার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তবে কাজীপাড়ায় বৃষ্টির পানিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে চেইন পড়ে যায়।

কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কথা হয় নাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। এমন জানলে আজ বাসা থেকে বের হতাম না।’

তীব্র বৃষ্টিতে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর সড়কে হাঁটুসমান পানি জমেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

সকালে অফিসের কাজে নারায়ণগঞ্জ যেতে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছিল আসিফ হোসেনের। কিন্তু সাড়ে সাতটার দিকে কাজীপাড়ায় তাঁর গাড়ি আটকে যায়। পানি বেশি থাকায় ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয় এবং তিনি তিন ঘণ্টা বসেছিলেন একই জায়গায়। তিনি বলেন, ‘এমন বৃষ্টি ঢাকায় কখনো দেখিনি। এত পানি কখনো হয়নি। এখন সামনে এগোতে পারছি না। বাসায় ফিরে যাব, সে অবস্থাও নেই।’

কাজীপাড়া মেট্রো স্টেশনের নিচে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁপছিলেন মো. হাসান। তাঁর পুরো শরীর ভেজা ছিল এবং শীতে কাঁপছিলেন বলে জানান তিনি। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘পইড়া গেছি, ভাই। মোবাইল, মানিব্যাগ সব হারায়া গেছে। এখন যাওয়ার উপায় নাই।’ তিনি জানান, ফুটপাতে থাকা ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা থাকায় পানির মধ্যে দেখতে না পেয়ে পড়ে গেছিলেন। পরে কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি মেট্রোর টিকিট কেটে গন্তব্যে যান।