হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ইরানকে আজ শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও পলিটিকো এই তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই কৌশলগত জলপথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়, যার নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতেই রয়েছে।
ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকা উচিত। ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা নিয়ে গঠিত এই প্রণালির ভেতর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তেহরান। তবে যুদ্ধের আগে ইরান এমন কোনো ফি আদায় করত না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে থাকলেও কোনো দেশ সাধারণত এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে বা টোল আদায় করতে পারে না।
চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করেছে। এই ছাড়ের আওতায় তেহরান আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি ও সরবরাহের সুযোগ পেয়েছিল।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ ওমান সফরে গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে কাতারের রাজধানী দোহা। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম গত শুক্রবার জানিয়েছে, গত মঙ্গলবারের হামলা ও পাল্টা হামলার পর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা জোরদার করতে দেশটির একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের পাল্টাপাল্টি হামলার পরদিন বুধবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।






