যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে দাবি করেছে, তারা যেন হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণা দেয় এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়। আজ শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, জাহাজে হামলা করা ভুল ছিল। তবে ইরান দাবি করেছে, এ ঘটনার জন্য তাদের ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা’ একটি অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী দায়ী।

ট্রাম্প বলেন, "১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত"—হত্যার চেষ্টা চালালে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহের সংঘর্ষ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউস মনে করে, হরমুজে সংঘটিত ওই ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।

এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে ইরান ‘নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে’। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, ইরানি কট্টরপন্থীদের একটি অংশ বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আলোচনা বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করেছিল বলে ইরান দাবি করেছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘তারা (ইরান) আবার আলোচনায় ফিরে বলেছে, “আমরা ভুল করেছি। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।”’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার আজকের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে কথা আছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা।

গতকাল শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস আরও চায়, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো ভুল ছিল বলে ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমানো এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য গতকাল কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরান সফর করেছে।

একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

ইরানের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ হুমকির মধ্যে তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।

অতিসম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লেও গতকাল নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ।

হরমুজ প্রণালিতে ওমানের জলসীমায় গত সোমবার তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। তবে ইরান বারবার দাবি করছে, তাদের নির্ধারিত পথ দিয়ে জাহাজের চলাচল করতে হবে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর লক্ষ্য ছিল, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটানো।

চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ পরিষেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনা করার কথা আছে।