যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অরিন অ্যাসমাস প্রমাণ করেছেন বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। ৯৩ বছর বয়সেও তিনি দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন বিশাল পণ্যবাহী ট্রাক। চলতি বছরের আগস্টে তিনি ৯৪ বছরে পা দেবেন। যেখানে এই বয়সে অনেকেরই অন্যের সহায়তায় চলাফেরা করতে হয়, সেখানে অরিন পেশাদার ট্রাকচালক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।

দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে ট্রাকের কেবিনে জীবন কাটিয়েছেন অরিন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথমবার ট্রাকের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ‘ম্যাকলাফলিন ফ্রেইট’ কোম্পানিতে কর্মরত এবং সেখানে গত ১১ বছর ধরে কাজ করছেন। এখন তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ট্রাকচালকের স্বীকৃতি পেতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই রেকর্ডের মালিক কানসাসের ডয়েল আর্চার, যিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৯২ বছর বয়সে এই স্বীকৃতি অর্জন করেন। ডয়েল আর্চারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অরিন। তাঁর বর্তমান নিয়োগকর্তা ‘ম্যাকলাফলিন ফ্রেইট’ প্রবীণ এই চালকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে।

জীবনের শুরুতেই কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই আকস্মিক এক প্রয়োজনে গবাদিপশু বোঝাই ট্রাক নিয়ে শিকাগো পাড়ি দিয়েছিলেন অরিন। সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ৫০ লাখ মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করেছেন। গত সাত দশকে পিটারবিল্টস ও ম্যাক-সহ বিভিন্ন ধরনের দানবীয় ট্রাক চালিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা ও হাওয়াই বাদে বাকি ৪৮টি অঙ্গরাজ্যই তিনি ঘুরে দেখেছেন।

দীর্ঘ এই পেশাগত জীবনে অনেক রোমাঞ্চকর ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অরিন। নব্বইয়ের দশকে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গার সময় উন্মত্ত জনতার ভিড়ে তাঁর ট্রাকের এক্সহস্ট পাইপে রাইফেলের গুলি ঢুকেছিল। এছাড়া চোখের সামনে পেট্রলপাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ দেখেছেন তিনি। তবে এসব বিপদও তাঁকে সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে পারেনি।

সময়ের সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সড়কপথ ও ট্রাকের প্রযুক্তির পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন অরিন। তিনি জানান, আগে ট্রাকে কোনো এসি বা ঘুমানোর জায়গা ছিল না। এখন স্বয়ংক্রিয় গিয়ার ও ক্রুজ কন্ট্রোল চলে এসেছে। তবে তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে যানজটের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বেও সক্রিয় অরিন। গত ২০ বছর ধরে তিনি মিডলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।