ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজার মাজারে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই শোকযাত্রায় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরিহিত আলেমরা হেঁটে যাচ্ছিলেন। কালো পোশাক পরিহিত হাজার হাজার শোকাহত মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান লেখা লাল প্ল্যাকার্ড হাতে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহব্যাপী জানাজা, শোকযাত্রা ও শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটল। তবে তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

উল্লেখ্য, চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর গত মাসে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় যুদ্ধের প্রথম দফায় খামেনি নিহত হন। টানা ৪০ দিনের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং গত মাসে যুদ্ধ শেষ করতে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মার্চের শুরুতে ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁর কোনো ছবি, ভিডিও বা কণ্ঠধারণ প্রকাশ করা হয়নি, যদিও তিনি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।

জানা গেছে, বাবাকে হত্যার সেই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। তেহরানের জ্যেষ্ঠ কয়েকটি সূত্রের দাবি, মোজতবা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন, তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসার মতো অবস্থায় পৌঁছাননি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রেখেছে।

মাশহাদে শোকযাত্রার অপেক্ষায় জড়ো হওয়া অনেক মানুষকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দিতে শোনা যায়।

বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তরুণ বয়সে কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন তিনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দ্রুত দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন খামেনি। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর সেই পদে আসীন ছিলেন।