মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ যে এখনো অম্লান, তার প্রমাণ মিলল নতুন এক বইয়ের আকাশচুম্বী বিক্রিতে। সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা 'রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প' বইটি প্রকাশের প্রথম সপ্তাহেই তিন লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সাইমন অ্যান্ড শুস্টার এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাঁকে কেন্দ্র করে লেখা অনেক বই বিক্রির রেকর্ড গড়েছিল, তবে দ্বিতীয় মেয়াদে তেমন সাফল্য দেখা যায়নি। ফলে অনেক প্রকাশকের ধারণা ছিল, ট্রাম্প সম্পর্কে পাঠকদের আগ্রহ কমেছে এবং নতুন করে জানার মতো তেমন কিছু নেই। তবে এই বইটির ব্যাপক চাহিদায় সেই ধারণা বদলে গেছে। বইয়ের দোকান ও অ্যামাজনে দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে তৃতীয় দফায় মুদ্রণ শুরু হয়েছে এবং আরও দুই লাখ কপি ছাপার কাজ চলছে। প্রকাশকের দাবি, ২০২৬ সালে প্রকাশিত হার্ডকভার নন-ফিকশন বইগুলোর মধ্যে প্রথম সপ্তাহে এটিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বই।
বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম ১৪ মাসের বিভিন্ন ঘটনা বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইং, প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন, ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেট, এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান এবং তাঁর বিভিন্ন বিদেশ সফরের অন্তরালের ঘটনাগুলো এতে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ ব্যবহারের কৌশল, ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ এবং হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা ও কাঠামো পরিবর্তনের আগ্রহের বর্ণনা রয়েছে বইটিতে।
বইটির প্রচারণায় ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ান নিয়মিত বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বইয়ের তথ্য ও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের একান্ত সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছেন। ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নাকি ইতিহাসের কয়েকজন কুখ্যাত শাসকের সঙ্গে নিজের তুলনা টানা নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে হ্যাবারম্যান ও সোয়ান দুজনই 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদক।
তবে বইটি প্রকাশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে অনুসরণ করে সংবাদ প্রকাশ করা ম্যাগি হ্যাবারম্যানের উদ্দেশে তিনি বইটিকে ‘বেশির ভাগই বানানো গল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সাইমন অ্যান্ড শুস্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রকাশক শন ম্যানিং বলেছেন, বইটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “রেজিম চেঞ্জ ভবিষ্যতে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।”






